ব্যাগপত্তর গুছিয়ে উধাও রিয়া! তিনদিন ধরে খোঁজ নেই পরিবারেরও, লুকআউট নোটিস জারি করতে পারে বিহার পুলিশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিয়া চক্রবর্তী কি গা ঢাকা দিয়েছেন? মাঝরাতে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে সেই যে গেছেন আর পাত্তা নেই। কোথায় রিয়া?
বিহার পুলিশের দাবি, রিয়া চক্রবর্তীর খোঁজ নেই। সম্ভবত তিনি উধাও হয়েছেন। রিয়ার ফ্ল্যাটের রক্ষীর বয়ান নিয়ে জানা গেছে, দিন
শেষ আপডেট: 2 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিয়া চক্রবর্তী কি গা ঢাকা দিয়েছেন? মাঝরাতে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে সেই যে গেছেন আর পাত্তা নেই। কোথায় রিয়া?
বিহার পুলিশের দাবি, রিয়া চক্রবর্তীর খোঁজ নেই। সম্ভবত তিনি উধাও হয়েছেন। রিয়ার ফ্ল্যাটের রক্ষীর বয়ান নিয়ে জানা গেছে, দিন তিনেক আগে মাঝরাতে একটা বিরাট সুটকেস নিয়ে রিয়া নাকি ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। নীল রঙের গাড়িতে চেপে চলে গিয়েছিলেন। তারপর আর ফিরে আসেননি। রিয়ার সঙ্গেই বেপাত্তা তাঁর ভাই ও পরিবারের অন্যেরা।
বিহার পুলিশের বক্তব্য, রিয়া যদি নিরাপরাধই হবেন তাহলে এত লুকোচুরি কিসের? ক’দিন আগেই তো ভগবানের দোহাই দিয়ে বলছিলেন তিনি ন্যায় বিচার পাবেনই। ভারতীয় বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর নাকি অগাধ আস্থা। বিশ্বাসের ভিত যদি এতটাই মজবুত হয় তাহলে পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা বন্ধ করুন রিয়া, সাফ জানিয়েছেন বিহারের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে। এই সময় রিয়া যাতে দেশের বাইরে না যেতে পারেন, সে জন্য লুকআউট নোটিস জারি করার কথাও ভাবছে বিহার পুলিশ।
রিয়া উধাও হয়েছেন বিহার পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ অভিনেত্রীর আইনজীবী সতীশ মানশিন্দে। তাঁর বক্তব্য, রিয়া নিখোঁজ হননি। তিনি পুলিশের সঙ্গে সবরকমভাবে সহযোগিতা করছেন।
রিয়ার আইনজীবীর আরও দাবি, বিহার পুলিশের অভিযোগ সঠিক নয়। রিয়ার বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে মুম্বই পুলিশ। যখনই ডাক পড়েছে তিনি গিয়ে পুলিশের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। এখনও অবধি বিহার পুলিশের তরফে ডাক পাননি রিয়া। এই তদন্তে বিহার পুলিশের নাক গলানোর আইনি অধিকার নেই।
সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়া ও ছ’জনের বিরুদ্ধে বিহার পুলিশের কাছে এফআইআর করেছিলেন সুশান্তের বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং। সুশান্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে রিয়া ১৫ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিলেন এমন অভিযোগও উঠেছে। এই তদন্তে গতি আনতেই মুম্বই গিয়েছিলেন পুলিশ সুপার বিনয় তিওয়ারি। কিন্তু তাঁকে জোর করেই কোয়ারেন্টাইনে ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৃহন্মুম্বই পুরসভার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। গোটা ব্যাপারটাই তদন্তে বাধা দেওয়ার জন্য বলেই দাবি করেছে বিহার পুলিশ।
এদিকে মুম্বই পুলিশের বক্তব্য, সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৮ কোটি টাকা ছিল। সেখান থেকে রিয়ার অ্যাকাউন্টে সরাসরি কোনও ট্রান্সফার হয়নি। সে প্রমাণ নাকি আছে। এর মধ্যেই মুম্বই পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং দাবি করেছেন, সুশান্তের ল্যাপটপ, মোবাইল ঘেঁটে দেখা গেছে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর উপায় গুগলে সার্চ করেছিলেন। সেই সঙ্গেই স্কিৎজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারের বিষয়েও খোঁজাখুঁজি করেছিলেন। সুশান্তের থেরাপিস্ট সুজান ওয়াকার বাইপোলার ডিসঅর্ডারের বিষয়টা সামনে আনার পর থেকেই মুম্বই পুলিশও দাবি করেছে অভিনেতা এই জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি নাকি নিয়মিত ওষুধও খেতেন। অন্তত ৫৬ জনের বয়ান রেকর্ড করে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি মুম্বই পুলিশের। যদিও সাইকোলজিস্ট সুজানের বক্তব্য মানতে রাজি নয় সুশান্তের পরিবার। তাঁরা জানিয়েছেন, সুজানের কাছে কাউন্সেলিং করাচ্ছিলেন সুশান্ত, তবে মাত্র কয়েকটা সিটিং হয়েছিল তাঁর। সত্যিই তিনি বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন কিনা বা এই মানসিক রোগের কোন স্টেজে ছিলেন সেটা এত কম সময় সুজান কীভাবে বুঝতে পারলেন। তাঁর বক্তব্যের প্রমাণ নেই বলেই দাবি অভিনেতার পরিবারের।