
দুর্ভোগে রোগীরা।
শেষ আপডেট: 14 August 2024 02:24
সুমন বটব্যাল ও প্রিয়ঙ্কা পাত্র
নো সেফটি, নো ডিউটি। স্লোগান তুলে শুক্রবার থেকে আন্দোলন নেমেছিলেন আরজিকরের ডাক্তারি পড়ুয়া এবং জুনিয়র চিকিৎসকরা। পরে সেই আন্দোলনের রেশ আরজিকর-সহ রাজ্যের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ছড়িয়ে পড়ে। গত পাঁচদিন ধরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে আতান্তরে পড়তে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। মঙ্গলবারও সেই ছবিটার বিশেষ বদল হল না।
কলকাতা থেকে জেলার অধিকাংশ হাসপাতালে জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও সেখানে কার্যত দেখা মিলল না চিকিৎসকদের। তথৈবচ হাল হাসপাতালগুলির ওয়ার্ডেও। কোথাও ভাঙা পায়ের প্লাস্টার কাটাতে এসেও দিনভর খোলা আকাশের নীচে স্ট্রেচারে বসে থাকতে হল রোগীকে, কোথাও বা মুমুর্ষ রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে শুনতে হল, এখানে চিকিৎসা হবে না, অন্য কোথাও যান!
আরজিকরে এদিন জরুরিবিভাগ খোলা থাকলেও চিকিৎসা পরিষেবা মেলেনি। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের চারতলায় সেমিনার হলে ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে বিক্ষোভে নেমেছেন পড়ুয়া চিকিৎসকরা। যার প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলিতেও। সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে অনেক পরিজনই ছুটি করে নিয়ে চলে যাচ্ছেন রোগীকে। এব্যাপারে অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তথৈবচ হাল কলকাতা সহ জেলার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলিতেও।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কার্যত শুনশান রইল দিনভর। কারণ, কর্মবিরতিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা। পরিষেবা নিতে এসেও ফিরতে হল রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। মুর্শিদাবাদ মেডিক্য়ালে জরুরি বিভাগে টিকিট কাটার পরও ডাক্তার দেখাতে পারলেন না রোগীরা। সৌজন্যে, জুনিয়র চিকিৎসকের আন্দোলন। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে কয়েকশ মানুষ। টিকিটও দেওয়া হল। কিন্তু ডাক্তারবাবুদের কাছ অব্দি পৌঁছনো গেল না।
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে সিনিয়র চিকিৎসকরা থাকলেও কাজে যোগ দিলেন না জুনিয়র চিকিৎসকরা। ফলে দিনভর ব্যাহত পরিষেবা। আরও শোচনীয় হাল পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মেডিক্যাল কলেজের মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন চলছে। বন্ধ আউটডোর পরিষেবা, বন্ধ ডাক্তারি পঠনপাঠনও।
ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজে আইটডোর বন্ধ থাকল দিনভর। অবিলম্বে আরজিকর কাণ্ডে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। হাওড়ার মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথি কলেজেও দিনভর কর্মবিরতি পালন করলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। বসিরহাটে স্বাস্থ্য জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, চুঁচুড়া ইমামবারা হাসপাতালে ১ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন চিকিৎসক ও নার্সরা। আরজিকরে ছাত্রী খুনের প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতেও।
আরজিকরে ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের মামলায় মঙ্গলবার বিকেলে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। তবে তাতে খুব একটা সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের কথায়, "সিবিআই তদন্ত মানেই তো সমস্যার সুরাহা হয়ে যাওয়া নয়। মামলার অগ্রগতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।"
এদিকে আরজিকর কাণ্ডের প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার রাজ্যজুড়ে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালের আউটডোর ও বেসরকারি হাসপাতালের ওপিডিও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন জয়েন্ট ফোরাম। ফলে বুধবার রাজ্যজুড়ে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।