
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 23 February 2025 00:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখতে দেখতে প্রায় ৭ মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। এখনও মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট পেলেন না। আইনি জটে আটকে রয়েছে মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শখের গাড়ি।
শনিবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে বড় অভিযোগ এনেছেন আরজি করের (RG Kar case) নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রীর বাবা-মা। সংবাদ মাধ্যমের কাছে তাঁরা বলেন, "ভাবুন! মেয়েকে তো চির জীবনের জন্য হারালামই! এমনকী মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট (daughter's death certificate) চাইতে গিয়েও হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে!"
কী ধরনের হেনস্থা?
নির্যাতিতার বাবা-মা জানান, মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে গাড়ির কাগজের নাম ট্রান্সফার করতে গেলে ডেথ সার্টিফিকেট লাগবে। কিন্তু পুরসভা এবং আরজি কর হাসপাতাল একে অপরকে দেখাচ্ছে। পুরসভায় গেলে ওরা বলছে, আরজি করে যান, আর আরজি কর হাসপাতালে গেলে ওরা বলছে, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না!
ডেথ সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে কী কী নথি প্রয়োজন?
নির্যাতিতার বাবা বলেন, "হাসপাতালে ভর্তি করার টিকিট, চালান এগুলো নাকি ওদের কাছে নেই। এমনকী মৃত্যুর পর ডিউটিরত যে মেডিক্যাল অফিসারের ডিক্লেরেশন সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা, তিনি নাকি সেটা দেননি।"
গত বছরের ৮ অগস্ট গভীর রাতে আরজি কর হাসপাতালে খুন-ধর্ষণের শিকার হন দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি ছাত্রী। ঘটনার পর থেকেই একাধিক প্রশ্নে বিদ্ধ আরজিকর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে এদিন বড় প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরা বলছেন, "ডেথ সার্টিফিকেট দিতেও ওরা ভয় পাচ্ছে কেন? কী আড়াল করতে চাইছে সরকার?"
যদিও হাসপাতাল সূত্রে বলা হচ্ছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সোমবারের মধ্যে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এতদিন পরও কেন নির্যাতিতার পরিবারকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হল না, তার কোনও সদুত্তর মেলেনি আরজি কর মেডিক্যালের তরফে।
নির্যাতিতার মা বলেন, "গাড়িটা মেয়ের বড় শখের ছিল। সাত মাস ধরে গাড়িটা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। ডেথ সার্টিফিকেট পেলে নাম পরিবর্তন করে আমরা অন্তত চালাতে পারব। তা না করে রাস্তায় ওই গাড়ি নিয়ে বেরোলে পুলিশ তো ধরতে পারে!"