
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 28 December 2024 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডে যে সেমিনার হল থেকে ডাক্তারি ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেটি ক্রাইম সিন নয় বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির রিপোর্ট (Central Forensic Science Laboratory)।
এবার আদালতে জমা দেওয়া সিবিআইয়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুললেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে গোটা ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকরা। জেনে বুঝেই তদন্তকে ভুলপথে পরিচালিত করা হচ্ছে কিনা, এ নিয়েও নিজেদের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করছেন তাঁরা।
শিয়ালদহ আদালতে চলছে আরজি কর মামলার শুনানি। সম্প্রতি সিবিআইয়ের তরফে আদালতে জমা দেওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজকে ঘিরেই নতুন করে সন্দেহের দানা বাঁধছে আন্দোলনকারীদের মনে।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার বলেন, "আরজিকর মেডিক্যালের এমারজেন্সি বিল্ডিং থেকে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ছ'শো মিটার। অথচ লিফট বা সিঁড়ি দিয়ে নামা থেকে শুরু করে বাইক স্টার্ট দেওয়া, সমগ্র পথটা নাকি অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় মাত্র তেতাল্লিশ সেকেন্ডে পেরিয়ে গিয়েছিল! সিবিআইয়ের তরফে জমা দেওয়া এই সিসিটিভি নিয়েই আমাদের মনে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এতটা পথ এত কম সময়ে তো সুপার ম্যানও পেরোতে পারবে না। তাহলে কি কিছু আড়াল করা হচ্ছে?"
দেবাশিস এও বলেন, "আমরা বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নই বলেই প্রশ্ন তুলছি। তদন্তপ্রক্রিয়ায় এমন একাধিক বিষয়ে আমাদের ধোঁয়াশা রয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে দিলেই আর সন্দেহ থাকে না।" এ ব্যাপারে অবশ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
আরজি কর কাণ্ডে ৯০ দিনের মধ্যে সিবিআই চার্জশিট জমা দিতে না পারায় ইতিমধ্যে জামিন পেয়ে গিয়েছেন আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। তারপরই মেয়ের খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে নতুন করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা।
সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি প্রশ্ন রেখেছেন তাঁরা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-কেন তড়িঘড়ি শেষকৃত্য করা হল? দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি জানালেও কেন তা গুরুত্ব দেওয়া হল না? মৃতদেহ উদ্ধারের দীর্ঘক্ষণ পর কেন মৃত ঘোষণা করা হয়, তাহলে কি উদ্ধারের সময় তিনি বেঁচেছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই বাঁচানোর চেষ্টা হয়নি? ক্রাইম সিনে ধস্তাধস্তির প্রমাণ মেলেনি, তবে কি ঘটনাস্থল অন্য কোথাও, আসল ঘটনা আড়াল করতেই সেমিনার হল কে সাজানো হয়েছে?
কাকতালীয়ভাবে, পরিবারের তরফে তোলা আশঙ্কাগুলি যে একেবারে অমূলক নয়, ইতিমধ্যে তার অনেকটাই ইঙ্গিত মিলেছে সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির রিপোর্টে (Central Forensic Science Laboratory)।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সংস্থার তরফে আরজি কর কাণ্ডে ১২ পাতার যে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আরজি করের যে সেমিনার হল থেকে ডাক্তারি ছাত্রীর দেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে ধস্তাধস্তির কোনও প্রমাণ নেই। অর্থাৎ সেমিনার হল ক্রাইম সিনই নয়। এবার আদালতে জমা দেওয়া সিবিআইয়ের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও বড় প্রশ্ন সামনে এল।