
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 August 2024 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করের চারতলার যে সেমিনার হল থেকে ডাক্তারি ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই ঘরটি কেন সঙ্গে সঙ্গে সিল করা হয়নি, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল জাতীয় মহিলা কমিশন। আরজি করে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সম্প্রতি এক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল কমিশন। সূত্রের খবর, ওই প্রতিনিধি দলের রিপোর্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দলের মতে, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের কারণেই সম্ভবত অপরাধস্থল সিল করা হয়নি। কাকতালীয়ভাবে শনিবার একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সুকান্তবাবু এদিন বলেন, "পুলিশ যদি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না করে থাকে তাহলে সিবিআই নিশ্চয়ই ডাক্তারি ছাত্রী খুনের প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পারবে।"
আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চলছে জেরা পর্ব। তারই মধ্যে মহিলা কমিশনের রিপোর্টে পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আনা হয়েছে।
সূত্রের খবর, রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন ঘটনাটিকে প্রথম আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল? তাহলে কি কাউকে আডাল করতেই এই তত্ত্ব সামনে আনা হয়েছিল? কেন মেয়েটির বাবা-মাকে দেহ দেখতে না দিয়ে ৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হল?
গত ৮ অগস্ট মধ্যরাতে আরজিকরের চারতলার সেমিনার হলে নৃশংসভাবে খুন করা হয় ডাক্তারি ছাত্রীকে। পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, মৃতার শরীরের অন্তত ১১ জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বুক, পেট, পা থেকে শুরু করে ঘাড়, গলা এমনকী যৌনাঙ্গে আঘাত রয়েছে। হাড় ভেঙেছে একাধিক।
ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ধৃত সঞ্জয় রায়কে জেরাও করছেন তদন্তকারীরা। তবে কমিশনের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, সঞ্জয় একা নয়, ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল আরও কেউ কেউ। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে মহিলা কমিশনের রিপোর্টে।