
আরজিকরের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 12 August 2024 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজিকর নিয়ে এবার মুখ খুললেন অধ্যক্ষ পদ থেকে সদ্য ইস্তফা দেওয়া সন্দীপ ঘোষ। 'চাপের মুখে নয়, স্বেচ্ছায় তিনি পদত্যাগ করছেন' দাবি করে সন্দীপবাবু বলেন, "আমি যখন আরজিকর মেডিক্যালের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন এখানে ঘুঘুর বাসা ছিল। বার্থ সাটিফিকেট নিতেও ঘুষ দিতে হত। কোনও কোনও নেতার মদতও ছিল। আমি সেগুলো বন্ধ করেছি। তাই আমার এত বিরোধিতা।"
শুধু অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া নয়, তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন বলে জানিয়ে সন্দীপবাবুর দাবি, "আমি স্পষ্ট বক্তা। মুখের উপর বলতে অভ্যস্ত। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করি না। তাই আমার ওপরে অনেকের রাগ।" একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, "আরজিকরের ঘুঘুর বাসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন একাংশ অধ্যাপকও।"
আরজিকর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চারতলায় সেমিনার হল থেকে শুক্রবার সকালে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীর দেহ মেলে। খবর জানাজানি হতেই তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। স্নাতকোত্তর স্তরে দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবারও রাত ২টো পর্যন্ত হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডিউটি করেন। পরে কর্মরত আরও দুই জুনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে রাতের খাওয়া সেরে পড়াশোনার জন্য সেমিনার হলে চলে যান। শুক্রবার সকাল থেকে আর খোঁজ মিলছিল না তাঁর। পরে সেমিনার হল থেকে মেলে অর্ধনগ্ন দেহ। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই ছাত্রীকে। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সঞ্জয় রায় নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তের শাস্তি, নিরাপত্তা ও অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ। কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের অন্য মেডিক্যাল কলেজেও। চাপের মুখে সোমবারই অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া সন্দীপ ঘোষের দাবি, "বলা হচ্ছে আমি নাকি ঘটনা আড়াল করছিলাম। অথচ ঘটনার কথা শোনার পর আমি প্রথম ঘটনাস্থলে দৌড়ে যায়। বিভাগীয় প্রধানও ছিল না। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশকে বলি, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। ফরেনসিক আনতে বলি ১ ঘণ্টার মধ্যে। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষীি মানুষ আমার ওপরেই সব দায় চাপাল।"
জানা যাচ্ছে, আরজিকরের অধ্যক্ষর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি প্রফেসরের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছেন সন্দীপবাবু। স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন তিনি।