
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 February 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠন প্রক্রিয়া ফের পিছিয়ে গেল। বৃহস্পতিবার শুনানির কথা থাকলেও তা হয়নি। আগামীকাল শুক্রবার মামলাটি শুনবেন বিচারপতি জয়মাল্যা বাগচী ও বিচারপতি শুভেন্দু সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে এদিন এ ব্যাপারে আদালত যে পর্যবেক্ষণ সামনে এনেছে, তাতে আগামী ১৪ থেকে ১৫ দিনের আগে আরজি কর দুর্নীতি মামলার চার্জগঠন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
হাইকোর্টের নজরদারিতেই আলিপুর আদালতে আরজি কর দুর্নীতি মামলার তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। তবে মামলার চার্জগঠন প্রক্রিয়া ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিবিআই।
আরজি কর দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠনের বিরোধিতা করে সন্দীপ ঘোষ যে আবেদন করেছিলেন তা ফের খারিজ করে দিয়েছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফের প্রধান বিচারপতির এজলাসের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সন্দীপ। এরপরই প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বিচারপতি জয়মাল্যা বাগচী ও বিচারপতি শুভেন্দু সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন সন্দীপ ঘোষ।
সেখানে সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী সাত দিন সময় দিতে হবে ডিসচার্জ পিটিশনের জন্য। তাঁদের প্রায় কুড়ি হাজার পাতার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে যা পড়ার সময় দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে একক বেঞ্চ কী করে বলতে পারে এক সপ্তাহের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে, এই প্রশ্ন ছিল তাঁর।
আদালতে সন্দীপ ঘোষ এও বলেন, 'ফেয়ার ট্রায়াল সবার অধিকার। চার্জশিট পেশ ও অনুমোদনের মধ্যে আমাদের ভূমিকা কোথায়? সকলেই হেফাজতে রয়েছে। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।'
এদিন সন্দীপ ঘোষের এই সওয়ালের পক্ষেই মত দিয়েছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যেক অভিযুক্তের সপক্ষে বক্তব্য রাখার আধিকার রয়েছে। এত পেপার পড়ার সময় দিতে হবে। এত তাড়াহুড়ো করলে হবে না। এরপরই ডিসচার্জ পিটিশনের জন্য অভিযুক্তকে সাত দিন সময় দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এবং তার সাতদিনের মধ্যে শুনানি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ ১৪ দিনের আগে চার্জগঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন আইনজীবীদের অনেকে।
এদিকে এভাবে এক একটা দিন করে দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার এর সুযোগে অভিযুক্তরা জামিন না পেয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় রয়েছে সিবিআই।