
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 February 2025 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠন করবে নিম্ন আদালতই। শুক্রবার জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্যা বাগচী ও বিচারপতি শুভেন্দু সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালত জানিয়েছে আগামী সোমবার আলিপুরে সিবিআই এর বিশেষ আদালতে অভিযুক্তরা তাদের বক্তব্য জানাতে পারবে। পরের দিন অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে। অর্থাৎ নিম্ন আদালতে চার্জ গঠন হলেও পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে উচ্চ আদালতের নজরদারিতেই।
আরজি কর দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের চার্জ গঠনের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিং, সুমন হাজরারা।
এদিন শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সিবিআইয়ের নথি এবং অভিযুক্তদের দেওয়া নথিতে কোন অপ্রাসঙ্গিক বিষয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে নিম্ন আদালত। তারপরআগামী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ফের মামলার শুনানি হবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে।
গত বছরের ৯ অগস্ট আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ-খুন করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরেই সামনে আসে আরজি করে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। ওই মামলাতেই পরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। ওই দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিল অভিযুক্তরা।
এই মামলায় ডিভিশন বেঞ্চে সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী সাত দিন সময় দিতে হবে ডিসচার্জ পিটিশনের জন্য। তাঁদের প্রায় কুড়ি হাজার পাতার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে যা পড়ার সময় দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে একক বেঞ্চ কী করে বলতে পারে এক সপ্তাহের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে, এই প্রশ্ন ছিল তাঁর।
শুক্রবার সন্দীপ ঘোষের এই সওয়ালের পক্ষেই মত দিয়েছিল আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রত্যেক অভিযুক্তের সপক্ষে বক্তব্য রাখার আধিকার রয়েছে। এত পেপার পড়ার সময় দিতে হবে। এত তাড়াহুড়ো করলে হবে না। এরপরই ডিসচার্জ পিটিশনের জন্য অভিযুক্তকে সাত দিন সময় দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এবং তার সাতদিনের মধ্যে শুনানি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবার আদালত জানিয়ে দিল, নিম্ন আদালতেই হবে চার্জ গঠন।
যা থেকে আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ১৪ দিনের আগে চার্জগঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে এর সুযোগে অভিযুক্তরা জামিন না পেয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় রয়েছে সিবিআই।