
অভিযুক্ত চিকিৎসক অভীক দে।
শেষ আপডেট: 12 September 2024 16:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে সম্প্রতি সাসপেন্ড করেছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। এবার অভীক দে'র বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল স্বাস্থ্য দফতর। জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের মাঝেই বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তারা।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, চার সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ চিকিৎসক পীতবরণ চক্রবর্তী, ডায়মন্ড হারবার গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ চিকিৎসক উৎপল দান, চিকিৎসক অভিজিৎ হাজরা এবং চিকিৎসক রামপ্রসাদ রায়। আগামী সাতদিনের মধ্যে অভীকের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়াা হয়েছে।
আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশে ওই ঘটনারও তদন্ত করছে সিবিআই। দুর্নীতির জন্য কলকাতা-সহ দুই বঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ কিছু ছাত্র নেতাকে দিয়ে তিনি সিন্ডিকেট রাজত্ব শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। বর্ধমান সিন্ডিকেটের 'মাথা’ হিসেবে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ অভীক দে'র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারেই অভীকের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।
শুধু দুর্নীতি নয়, আরজি করে চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ এই চিকিৎসকের। গত ৯ অগস্ট আরজি করের সেমিনার হলে ডাক্তারি ছাত্রীর রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থলেও অভীককে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এব্যাপারে ভাইরাল ভিডিওয় (সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি) অভীকের পাশাপাশি সন্দীপ ঘনিষ্ঠ আরও একাধিকজনের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তখনই জানা যায়, আরজি কর ঘটনার ১৫ দিন আগে চুঁচুড়ার এক ডাক্তারকে ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন অভীক দে। এমনই বিস্ফোরণ অভিযোগ এনেছিলেন আইএম-এর হুগলি চুঁচুড়া শাখার সভাপতি ডাক্তার ইন্দ্রনীল চৌধুরী।
কে এই অভীক দে?
সূত্রের দাবি, এসএসকেএমের পিজিটি এই অভীক, হাসপাতালে মেডিক্যাল মাফিয়া চক্র চালান। তার দলবলই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। ওই লবির আবার দুটি শাখা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ লবি, উত্তরবঙ্গ লবি। বয়স ও অভিজ্ঞতাতে ছোটো হলেও এই অভীক দে নাকি যথেষ্ঠ প্রভাবশালী।