
নির্যাতিতার বাড়িতে সিবিআই এর প্রতিনিধি দল।
শেষ আপডেট: 19 August 2024 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবারের পর সোমবার। ফের আরজিকরের নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রী বাড়িতে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধি দল। সূত্রের খবর এদিন সকালে তদন্তকারী দলের একটি টিম আরজিকরের নিহত ডাক্তারি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।
ছাত্রী খুনের ঘটনায় সামনে উঠে আসছে একের পর এক তত্ত্ব। সম্প্রতি এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমে কিছু মন্তব্য করেছেন নিহত ছাত্রীর বাবা-মা। এ বিষয়েই আরও জানতে তদন্তকারীরা এদিন নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
গত ৮ই অগস্ট গভীর রাতে আরজি করের চার তলার সেমিনার হলে ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট ছাত্রীকে ধর্ষণও করা হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতারও করেছে। তবে নিহত ছাত্রীর বাবা-মা প্রথম থেকেই অভিযোগ করছিলেন, সঞ্জয় ছাড়াও আরও কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাঁরা মনে করছেন, কারও একার পক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। তার মেয়ে যে রাত্রিবেলা সেমিনার হলে ঘুমোয়, ভেতরের কেউ না বললে সঞ্জয় কীভাবে সেটা জানল সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন। সূত্রের খবর, এদিন এ ব্যাপারেও তাঁদের সঙ্গে আরও একবার কথা বলেছেন সিবিআই এর তদন্তকারীরা।
আদালতের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিবিআই। গত বুধবারে এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে একাধিক তথ্য দিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহ সৎকার করার কাজেও যথেষ্ট তাড়াহুড়ো করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতার বাবা দাবি করেন, শ্মশানে আরও তিনটি লাশ ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁর মেয়ের মৃতদেহটিই তাড়াহুড়ো করে দাহ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আরজি করের ঘটনার পরে প্রথম থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, প্রয়োজনের চেয়ে তাড়াহুড়ো করে মেয়েটির দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের তরফে। বিরোধীরা দাবি করেছিল, প্রমাণ লোপাট করতেই পুলিশ এই কাজ করেছে। এমনকী এই ঘটনায় মর্গে পৌঁছে দেহ আটকে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন বাম নেত্রী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়। কিন্তু পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে কলকাতা পুলিশ জানায়, দেহ সৎকারে তাদের কোনও হাত ছিল না, যা করার করেছে মেয়েটির পরিবারই।
কিন্তু গত রবিবার পুলিশের ওই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে নিহত চিকিৎসকের বাবা বলেন, 'ওই দিন শ্মশানে তিনটি মৃতদেহ ছিল, কিন্তু আমাদের মেয়ের মৃতদেহটিই প্রথমে দাহ করা হয়েছিল তাড়াহুড়ো করে।'
এমনকী সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতার বাবা-মা এই অভিযোগও করেন, রাজ্যে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তার টুঁটি চেপে ধরছে শাসকদল। তাঁদের অভিযোগ, 'যাঁরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কণ্ঠস্বর চেপে ধরেছেন। তিনি নিজে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। অথচ অন্যদের প্রতিবাদ যাতে থেমে যায়, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করছেন।'
সূত্রের খবর, সামনে আসা এমনই একাধিক তথ্য সম্পর্কে আরও জানতে এদিন নির্যাতিতার বাবা-মার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন সিবিআইয়ের প্রতিনিধিরা।