.webp)
সুখেন্দুশেখর রায়।
শেষ আপডেট: 18 August 2024 21:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালবাজার তলব করার সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে রবিবার হাজিরা দিলেন না তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। বরং পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন তিনি যেতে পারবেন না। কেন তিনি যেতে পারবেন না তাও পরিষ্কার জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশকে। শুধু তাই নয়, দ্য ওয়ালকে সুখেন্দুশেখর এও জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে আইনি পথে হাঁটবেন কিনা তাও বিবেচনা করে দেখছেন।
আরজি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রবিবার এক বিরল ঘটনা ঘটে গিয়েছে শাসক দলের মধ্যে। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার তদন্ত নিয়ে খোলাখুলিই অসন্তোষ জানিয়েছেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। এমনকী তিনি এও দাবি করেছেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা উচিত সিবিআইয়ের।
সুখেন্দুবাবু এদিন দ্য ওয়ালকে জানিয়েছেন, এক্স হ্যান্ডেলে তাঁর ওই পোস্টের পর কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। সেই সঙ্গে বলা হয়, তিনি পোস্টটি মুছে ফেললে ভাল হয়। কারণ, তাঁর এই পোস্ট সমাজে উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সুখেন্দুবাবুর দাবি, এতে তিনি রাজি হননি। তার পরই তাঁকে লালবাজারে তলব করা হয়।
এ ব্যাপারে অবশ্য কলকাতা পুলিশের তরফে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে হ্যাঁ, এই যে ঘটনাক্রমের কথা জানাজানি হয়েছে তা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেও একটা আলোড়ন পড়ে গেছে।
পরে সন্ধেয় দ্য ওয়ালকে সুখেন্দুবাবু বলেন, "কলকাতা পুলিশকে জানিয়েছি যে আমি অসুস্থ। আমার ৭২ বছর বয়স হয়েছে। ক্রনিক সিওপিডি-র রোগী। সেই সঙ্গে ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা রয়েছে। ২৬ জুলাইয়ে দিল্লির এইমসে ডাক্তার দেখিয়েছিলাম, সেই প্রেসক্রিপশনের কথা বলেছি। তা ছাড়া ৩১ জুলাই তারিখে এসএসকেএমের দুটি প্রেসক্রিপশন রয়েছে। তাও জানিয়েছি। সেই সঙ্গে বলেছি, সুস্থ হলে আমি যাব।"
তবে সুখেন্দুবাবু এও বলেন, "আমি আইনের ছাত্র। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ করা যায় কিনা বিবেচনা করে দেখছি। সেই সঙ্গে একটা কথা জানিয়ে রাখতে চাই। তা হল, আমার দুটি সত্ত্বা রয়েছে। আমি যেমন রাজনীতিক, তেমনই একজন সাধারণ মানুষও। আমার মেয়ে আছে, নাতনি আছে। একটি মেয়ের উপর যে পাশবিক অত্যাচার হয়েছে, তা নিয়ে আমি চুপ করে থাকব না। আমাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না। শরীরে যতদিন প্রাণ থাকবে, বল থাকবে আমি প্রতিবাদ করেই যাব। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় জমানায় আমার বিরুদ্ধে মিশায় মামলা করা হয়েছিল, দমাতে পারেনি। এখনও পারবে না।"