
রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিবাল
শেষ আপডেট: 9 September 2024 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার আরজি কর মামলার শুনানিতে বড় প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন শুনানি শুরু হতেই স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। তার খুঁটিয়ে পড়েন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি মনোজ মিশ্র। স্ট্যাটাস রিপোর্ট হাতে নিয়ে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিবালকে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ময়নাতদন্তের চালান কোথায়? সেটা কি সিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়েছে? প্রধান বিচারপতি এও প্রশ্ন করেন, চালান ছাড়া ময়নাতদন্ত করলেন কী করে এর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক?
প্রধান বিচারপতি এই প্রশ্ন তুলতেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা বলেন, সিবিআই কিন্তু ময়নাতদন্তের চালান পায়নি।
সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন করা সত্ত্বেও কপিল সিবাল তাঁর ফাইলে ময়নাতদন্তের চালান খুঁজতে থাকেন। কিন্তু তিনি তা পাননি। তবে সিবাল কথা দেন, পরবর্তী শুনানির দিন এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার হলফনামা জমা দেবেন।
প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় শুনানিতে বলেন, ময়নাতদন্তের চালানের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মৃতের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর আগে একটা চালান লেখে পুলিশ। তাতে লেখা থাকে মৃতের শরীরে কী পোশাক পরা ছিল। আর কিছু ছিল কিনা ইত্যাদি। ডাক্তারবাবু সেই চালান না দেখে ময়নাতদন্ত করতে পারেন না। চালান ও তাতে সিলমোহর দেখে তবেই ময়নাতদন্ত শুরু করা উচিত। আমরা ওই কাগজটাই দেখতে চাইছি।
সর্বোচ্চ আদালত এই প্রশ্নও করে যে, চালান ছাড়া ময়নাতদন্ত হলে তা নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এ ব্যাপারে একটা ফর্ম থাকে। কোন কনস্টেবলের হাত দিয়ে সেই চালানের কপি পাঠানো হচ্ছে, তাতে তাঁর নামও লেখা থাকে। মৃতের পরিবারের কেউ সঙ্গে থাকলে তাঁর নামও সেই চালানে লেখা থাকে। কখন দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হল তাও লেখা থাকে।
চালানের কপি না থাকায় কপিল সিবাল বিড়ম্বনায় পড়ে যান। তিনি পরিষ্কার জানান, তাঁর কাছে চালানের কপি নেই। তাঁকে দেওয়া হয়নি। তবে এ ব্যাপারে তিনি আদালতকে অবশ্যই জানাবেন।
সর্বোচ্চ আদালত এদিন এই প্রশ্নও করে যে ঘটনার পরের সিসিটিভি ফুটেজ কি সিবিআইকে দেওয়া হয়েছে? অর্থাৎ অভিযুক্ত সেমিনার হলে ঢোকা ও বেরোনোর পরের সিসিটিভি ফুটেজ সিবিআইকে দেওয়া হয়েছে কিনা। প্রধান বিচারপতি বলেন, সেমিনার হল থেকে অভিযুক্ত বেরিয়ে যাওয়ার পর সেখানে আর কেউ ঢুকেছিল কিনা ইত্যাদি ব্যাপার জানতে গেলে এই ফুটেজ দেখা জরুরি।
কপিল সিবাল আদালতে দাবি করেন, সেই সিসিটিভি ফুটেজ সিবিআইকে দেওয়া হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা অবশ্য বলেন, সিবিআই মাত্র ২৭ মিনিটের ফুটেজ পেয়েছে। কিন্তু সিবাল বলেন, না না তা ঠিক নয়। পুরো সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। কয়েক খণ্ডে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরোটা দেওয়া হয়েছে।