
শেষ আপডেট: 7 January 2024 21:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসারে আক্রান্ত চিত্রা দত্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। জীবনের সঞ্চয়ের সম্বলটুকু দিয়ে মাথা গোঁজার জন্য একটি তিন কামরার ফ্ল্যাট কিনেছিলেন বিধাননগর পুরসভার অন্তর্গত বাগুইহাটি অঞ্জলি অ্যাপার্টমেন্টে। আর সেই ফ্ল্যাটেই চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
২০১৯ সাল থেকে সমস্যার সূত্রপাত। চিত্রাদেবীর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, বাগুইআটি অঞ্জলি অ্যাপার্টমেন্টের যারা ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে আছেন তারা ওই শিক্ষিকার ফ্ল্যাটের সামনে একটি অস্থায়ী অবৈধ অফিস ঘর তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। যা চিত্রাদিবী বাধা দেন এবং বিধাননগর পুরসভায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
বিধানসভা পুরসভার তরফে ওই অ্যাপার্টমেন্টের বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযোগ, তারপর থেকেই অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষিকার ওপর মানসিক, শারীরিক অত্যাচার শুরু করে অ্যাপার্টমেন্টের ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। আর এই সমস্ত কিছুর পিছনে মূলত ইন্ধন যুগিয়েছেন আবাসন পরিচালন কমিটির সেক্রেটারি সজল কর্মকার এবং নমিতা পাল।
এবিষয়ে বাগুইহাটি থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযুক্তরা এতটাই প্রভাবশালী যে তাঁদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে অভিযোগ, আবাসনের অভিযুক্তদের সঙ্গে আলাপচারিতা করে অভিযোগকারিনিকেই শাসিয়ে চলে যায় পুলিশ।
এরপর আবাসনের পরিচালন কমিটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার ফ্ল্যাটে ঢোকা বেড়ানোর রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যাবতীয় বিষয় নিয়ে বিধাননগর পুলিশ কমিশনের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাতের পরেও কোন সুরাহা পাননি চিত্রাদেবী। অবশেষে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মামলার শুনাননির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দারের হতেই অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। মামলাকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, যেদিন মামলার প্রতিলিপি গীতাঞ্জলি অ্যাপার্টমেন্টের পরিচালন কমিটির হাতে পৌঁছে যায় সেদিন থেকেই ওই শিক্ষিকার উপর শুধু চাপ সৃষ্টি করা হয়। সারাদিন আবাসনের ভিতরে তাঁকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রতিনিয়ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যাতে অবিলম্বে হাইকোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।