দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেলিভারি দেওয়ার সময় একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। তারই ফল ভুগতে হল রেস্তোরাঁ ম্যানেজারকে। থানায় ডেকে পাঠিয়ে বেধড়ক পেটালেন পুলিশ অফিসার। জেলে ঢুকিয়ে এফআইআরও করা হল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। খাবার দিতে দেরি করার ‘অপরাধ’-এ ছিনিয়ে নেওয়া হল তাঁর মানিব্যাগ।
রাজধানীর বুকে এমন ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশজুড়ে। ম্যানেজারকে মারধরের ভিডিও ভাইরালও হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও সেই ভিডিও নেট থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ডিসিপি (রেল) হরেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বোঝা গেছে এএসআই পদমর্যাদার ওই অফিসার সত্যিই দোষী। আইনের রক্ষকই আইন ভেঙে এমন জঘন্য অপরাধ করেছেন। অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
হজরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনের ধারে একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করেছিলেন ওই পুলিশ কর্তা। গত বৃহস্পতিবার। তাঁর দাবি, ফোন তুলেই নাকি ওই ম্যানেজার বলেন তিনি ব্যস্ত, খাবার দিতে দেরি হবে। এরপরে আরও কয়েকবার ফোন করেন অফিসার। সেই ফোন নাকি রিসিভ করেননি ওই ব্যক্তি। তাতেই চটে যান পুলিশ কর্তা।
এর পরের ঘটনা আরও ভয়ানক। রেস্তোরাঁ ম্যানেজার জানিয়েছেন, তাঁকে থানায় ডেকে পাঠান ওই পুলিশ অফিসার। তিনি বিনীতভাবেই জানিয়েছিলেন রেস্তোরাঁয় ভিড় থাকার কারণে ডেলিভারি দিতে একটু দেরি হয়। কিন্তু কোনও কথাতেই নাকি কান দিচ্ছিলেন না ওই পুলিশ কর্তা। তাঁকে আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান। তাঁর গোপনাঙ্গে লাথিও মারেন। যন্ত্রায় চিৎকার করে উঠলে অন্য পুলিশ কর্মীরা এসে তাঁকে জেলে ভরে দেন। তাঁর পকেট থেকে মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন ওই অফিসার। ব্যাগের মধ্যে ৫০০ টাকা ছিল। এরপরেও অফিসার হুমকি দেন, ভবিষ্যতে তাঁর ফোন দ্রুত রিসিভ না করলে বা খাবার দিতে দেরি করলে ভয়ানক শাস্তি দেওয়া হবে তাঁকে।
নিজের ভিডিও ক্যামেরা অন করে সবটাই রেকর্ড করেছিলেন ওই ম্যানেজার। ২ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের সেই ভিডিও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডও করে দেন। থানার ভিতর এমন ঘটনা ঘটতে দেখে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
ডিসিপি হরেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, ওই পুলিশ অফিসারকে বদলি করে দেওয়া হবে। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হবে। দিল্লির সব থানাতেই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে যে ভবিষ্যতে পুলিশের তরফে এমন অন্যায় ঘটনা ঘটলে, কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।