দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি ২০১৯-২০ সালের আর্থিক বছর শেষ হবে ৩০ জুন। ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছর শুরু হবে ১ জুলাই। কিন্তু শেষ হবে যথারীতি ২০২১ সালের ৩১ মার্চ। গত শনিবার দিল্লিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কেন্দ্রীয় বোর্ডের বৈঠক বসে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০১৯-২০ সালের আর্থিক বছর শেষ হবে অন্যান্য বারের থেকে দেরিতে। ২০২১ সাল থেকে আর্থিক বছর শুরু হবে ১ এপ্রিল।
এখনও পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং সরকার, উভয়েই 'টি প্লাস ওয়ান' সিস্টেম মেনে চলে। অর্থাৎ একটি আর্থিক বছর দু'টি ক্যালেন্ডার ইয়ার জুড়ে থাকে। কোনও বছরের ১ এপ্রিল আর্থিক বছর শুরু হয়ে শেষ হয় পরের বছরের ৩১ মার্চ।
এর আগে জানা যায়, ২০১৯ সালে বিপুল পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বছরের শেষে দেখা যায়, এশিয়ার দেশগুলির মধ্যেই ভারতেই বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বেড়েছে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে। বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অন্যান্য দেশের মতো ভারতীয় মুদ্রার দামও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে টাকার দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য কাজে লাগতে পারে এই বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার।
গত সপ্তাহেই টাকার দাম পড়েছে দুই শতাংশ। ভারতে কয়েকজনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার পরেই বাজারে আতঙ্ক দেখা দেয়। তার ফলে টাকার অবমূল্যায়ন ঘটে। গত ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে এশিয়ার সব দেশের মুদ্রারই দাম কমেছিল। সেই তুলনায় টাকার দাম ছিল স্থিতিশীল। কিন্তু মার্চে এশিয়ার মধ্যে টাকারই অবমূল্যায়ন হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
মুম্বইয়ে এডেলওয়েইস সিকিউরিটিজ লিমিটেডের হেড অব ফরেন এক্সচেঞ্জ সজল গুপ্ত বলেন, “টাকার অবমূল্যায়ন ঠেকানোর জন্য আরবিআইয়ের হাতে একটা বিরাট অস্ত্র আছে। বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারই হল সেই অস্ত্র। ভারতেও করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে জানার পরে নানা মহলে প্যানিক ছড়িয়ে পড়ে। তার ফলেই টাকার দাম কমেছে।”
২০১৯ সালে ভারতে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বেড়েছে ৬৪০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ৪ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। ২০২০ সালে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক পেয়েছে আরও ১৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ভারতে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় ছিল ৩৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। সেই তুলনায় গত বছর চিনের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছে ৩৫০০ কোটি ডলার। ইন্দোনেশিয়ার বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বেড়েছে ৮৫০ কোটি ডলার ও মালয়েশিয়ায় বেড়েছে ২২০ কোটি ডলার।