দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিবিআইয়ের পরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সিবিআইয়ের দুই কর্তার ঝগড়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যেমন বিপাকে পড়েছিল, এবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে সমস্যা। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক কর্তা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, সরকার এই প্রতিষ্ঠানের স্বশাসনে নাক গলাচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্মী ইউনিয়নও তাঁকে সমর্থন করেছে। এর ফলে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উচ্চপদস্থ অফিসাররা।
গত শুক্রবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর ভিরাল আচার্য মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় সরকারকে সতর্ক করে দেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বশাসনকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তা হলে বিপর্যয় ঘটবে। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে পুঁজির বাজারে অনাস্থার মনোভাব ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প্যাটেলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভিরাল বলেন, তিনিই আমাকে এই বিষয়টি নিয়ে বক্তৃতা দিতে বলেছিলেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ শুরু হয়েছে ।
কিছুদিন আগে সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করে, যে সব ব্যাঙ্কের পুঁজি কম, অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেশি, তাদের ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি শিথিল করা হোক। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ১১টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে জানিয়ে দিয়েছে, পুঁজি না বাড়ালে আর ঋণ দেওয়া হবে না। সরকার কার্যত তাদের ব্যাপারে নরম হওয়ার জন্যই রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করেছিল।
সুদের হার নিয়েও সরকারের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মনে করে, সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী একমাত্র তারাই। এ বিষয়ে সরকারের কিছু বলার থাকতে পারে না। মূলত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই সুদের হার পরিবর্তন করা হয়। কিছুদিন আগে সরকার চেয়েছিল, সুদের হার কমানো হোক। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছিল। তখন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
সরকার চেয়েছিল, স্বশাসিত পেমেন্ট রেগুলেটরি বোর্ড তৈরী হোক। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্তারা রাজি হননি।
শীর্ষ ব্যাঙ্কের সঙ্গে যতই বিরোধ থাক, ভিরাল আচার্যের মতো দায়িত্বশীল অফিসার এইসব বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করবেন, অনেকেই ভাবতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক অফিসার জানিয়েছেন, সরকার স্তম্ভিত। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতো প্রতিষ্ঠানের থেকে এমন আশা করা যায় না।