
শেষ আপডেট: 12 August 2023 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষর শরীরে ক্যানসারের (Cancer) বিরুদ্ধে লড়াই করতে নামছে ব্যাকটেরিয়া (Bacteria)।
এমন মারণ শত্রুকে রোখা বা প্রতিহত করা অসম্ভব ব্যাপার। একবার যদি শত্রু কোষ সংখ্যায় বেড়ে ছড়াতে শুরু করে, তখন মানুষের কোনও হাতিয়ারই কাজে আসে না। বাইরে থেকে এই শত্রুর সঙ্গে লড়াই করা সহজ নয়, এটা বেশ বুঝেছিলেন বিজ্ঞানীরা। শত্রুনাশ করতে হবে ভেতর থেকেই। তাই শরীরের ভেতরেই ক্যানসার কোষকে যুদ্ধে আহ্বান করতে চলেছে মানুষের তৈরি 'বন্ধু' ব্যাকটেরিয়ারা।

জার্নাল সায়েন্সে এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বায়োলজিস্ট রবার্ট কুপার ও তাঁর টিম জেনেটিকালি মডিফায়েড ব্যাকটেরিয়া (Bacteria)তৈরি করেছেন যান নাম অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বেইলি ( Acinetobacter baylyi)। জেনেটিকালি মডিফায়েড মানে হল ইচ্ছামতো জিনের সাজসজ্জা বদলে দিয়ে যে কোষ ডিজাইন করা হচ্ছে। এই ব্যাকটেরিয়াকে ল্যাবরেটরিতে ডিজাইন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এমনভাবে এর জিনের বিন্যাস সাজানো হয়েছে যে মানুষের শরীরে ঢুকলে এটি রোগ-প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ক্যানসার কোষ বা যে কোনও সংক্রামক প্রোটিন দেখলেই তেড়ে গিয়ে আক্রমণ করবে।

অ্যাসিনেটোব্যাক্টারের বৈশিষ্ট্য হল, এটিকে শরীরে ঢুকিয়ে দিলে টিউমার ডিএনএ-র বিরুদ্ধে লডা়ই করবে। বিজ্ঞানী রবার্ট বলছেন, এই ব্যাকটেরিয়া শুধু ক্যানসার কোষ চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে তাই নয়, এ আবার টিউমার ডিএনএ চুরিও করতে পারবে। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন “pickpocket” ব্যাকটেরিয়া।
মানে ধরা যাক, শরীরে টিউমার কোষ তৈরি হল। সেই কোষ বিভাজিত হতে হতে ছড়াতে শুরু করবে। এমন অবস্থায় যদি অ্যাসিনেটোব্যাক্টারকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শরীরে, তাহলে সেটি ক্যানসার কোষের ঘাড়ে চেপে বসবে। নিজের ডিএনএ-র কিছু অংশ ক্যানসার কোষে ঢুকিয়ে দেবে। তারপর ধীরে ধীরে ক্যানসার কোষের ডিএনএ-কে শুষে নেবে। ক্যানসার কোষের ডিএনএ-র যাতে আর মিউটেশন (রাসায়নিক বদল) না হয় বা সংখ্যায় বাড়তে না পারে তাই এইভাবে ক্যানসার ডিএনএকে খতম করে ব্যাকটেরিয়া। একবার যদি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যানসার কোষ থেকে ডিএনএ ছিনতাই করতে পারে ব্যাকটেরিয়া, তাহলে আর ক্যানসার ছড়াবার ভয় থাকবে না।

ক্রিসপার-জিন এডিটিং পদ্ধতিতে এমন জেনেটিকালি মডিফায়েড ব্যাকটেরিয়া বানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ক্রিসপার (CRISPR) হল ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)-র একটি পরিবার যা মূলত প্রোক্যারিওটিক জীব অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া, আর্কিয়াদের মধ্যে পাওয়া যায়। সোজা কথায় বলতে গেলে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের বিন্যাস। এই জিনের বিন্যাস আসে ব্যাকটেরিওফাজের থেকে। এই জিনের বিন্যাসের অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ থাকে। ব্যাকটেরিয়ার শরীরে ইমিউনিটির জন্য দায়ী। ক্রিসপার-ক্যাল সিস্টেমকে বলে প্রোক্যারিওটিক ইমিউন সিস্টেম। এই ক্রিসপার-ক্যাস৯ অ্যান্টিভাইরাল ডিফেন্স সিস্টেমকে ব্যবহার করেই জিন এডিটিং বা জিনের বিন্যাসে বদল নিয়ে আসেন বিজ্ঞানীরা। ক্যাস-৯ নিউক্লিয়েজের সঙ্গে সিন্থেটিক গাইড আরএনএ (gRNA) যোগ করে কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এই আরএনএ যুক্ত ক্যাস-৯ যে কোনও প্যাথোজেন বা ফরেন মলিকিউলকে কেটে দিতে পারে নির্দিষ্ট স্থানে। কোষের ক্ষতিকর জিন কেটে বাদ দিয়ে তাকে মডিফায়েড করা যায় এই পদ্ধতিতে। ক্যানসার নামক মারণ ব্যাধির চিকিৎসায় এই পদ্ধতির প্রয়োগ করছেন বিজ্ঞানীরা।