
শেষ আপডেট: 11 December 2023 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যের জেলায় জেলায় ফসলের বিস্তর ক্ষতি হয়েছে। দিকে দিকে সারের কালোবাজারির অভিযোগ উঠছে। তারই মাঝে কয়েকটি জেলা থেকে কৃষক আত্মহত্যার অভিযোগও উঠেছে। সোমবার এই প্রসঙ্গেই নবান্ন থেকে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানালেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
কৃষিমন্ত্রীর দাবি, “এরাজ্যে কৃষকের আত্মহত্যার কোনও ঘটনা নেই। মুখ্যমন্ত্রী কৃষকদের জন্য যা যা ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতে এরাজ্যে কৃষকদের আত্মহত্যার কোনও জায়গা নেই।”
কেন একথা বলছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শোভনদেব। তাঁর কথায়, “আমরা কৃষকদের বিমা দিই। কোনও কৃষক মারা গেলে সরকারিভাবে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়াও পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ৬০ বছর বয়স হলেই কৃষকরা মাসে ১ হাজার টাকা পেনশন পান। এছাড়াও কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বছরে কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ও সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়। এতকিছু সাহায্য থেকেই পরিষ্কার, এরাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার কোনও ঘটনা নেই। যা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন খবর।”
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে সারের কালোবাজারি নিয়ে অভিযোগ উঠছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই কালোবাজারির একটাই কারণ, রাজ্যের চাহিদা মতো সার পাঠাচ্ছে না কেন্দ্র। ফলে চাহিদার তুলনায় কম সার রাজ্যে আসায়, ব্যবসায়ীদের অনেকেই সুযোগ বুঝে ইচ্ছে মতো দামে সার বিক্রি করছেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আমরা রবি শস্যের সময় ৬.৭২ লাখ টন সার (১০ ২৬ ২৬ এটি বিশেষ ধরনের সার) চেয়েছিলাম। কেন্দ্র দিয়েছিল মাত্র ৮৯ হাজার ৫০০ টন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে চাষিদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।”
তবে এ ব্যাপারে সরকারি নজরদারিও যে রয়েছে, তাও স্পষ্ট করতে চেয়েছেন শোভনদেব। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রায় দেড় হাজার সার ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে। ৬ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “শুধুমাত্র এই বছর কেন্দ্র কম সার পাঠিয়েছে এমনটা নয়, প্রতিবারই কেন্দ্র এটা করে। কোনওদিনই কেন্দ্র প্রয়োজন মতো সার পাঠায় না।”