দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবারই লকডাউনের মেয়াদ আরও ১৯ দিন বাড়িয়েছে মোদী সরকার। সরকার থেকে বার বার বলা হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। বুধবার জানা গেল, বিজ্ঞানীরা বলছেন, দফায় দফায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ২০২২ সাল অবধি। না হলে বিপুল সংখ্যক মানুষ অতিমহামারীতে আক্রান্ত হবেন। হাসপাতালে তাঁদের জায়গা দেওয়া যাবে না। করোনাভাইরাস গত কয়েকমাসে যেভাবে ছড়িয়েছে, তা লক্ষ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশ করেছেন ‘সায়েন্স’ জার্নালে। তাতে বলা হয়েছে, আগামী দিনে নির্দিষ্ট ঋতুতে একাধিকবার ফিরে আসতে পারে কোভিড ১৯। ওই রোগ সাধারণ সর্দিকাশির চেয়ে অনেক বেশি ছোঁয়াচে। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা এখনও নতুন রোগটির সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না। একবার সংক্রমণ হলে শরীরে কী ধরনের প্রতিরোধক্ষমতা জন্মায়, সেই ক্ষমতা কতদিন বজায় থাকে, আমরা কিছুই জানি না।
বিজ্ঞানীদের অন্যতম স্টিফেন কিসলার বলেন, “আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, কিছুদিনের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়। আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ভবিষ্যতে দফায় দফায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোভিড ১৯ এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। রোগ ঠেকাতে বারে বারে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখাই হল পথ।”
বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে যখনই রোগটি ফের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে, তখনই ব্যাপক হারে টেস্ট করা প্রয়োজন। করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হলে লকডাউনের সময়সীমা কমানো যেতে পারে। লকডাউনের সময় কিছু ছাড়ও দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু যতদিন ভ্যাকসিন না বেরোচ্ছে, ততদিন মাঝে মাঝেই লকডাউন চালিয়ে যেতে হবে। যখনই ছাড় দেওয়া হবে, তখনই বাড়বে রোগীর সংখ্যা। কিন্তু মাঝে মাঝে লকডাউন হলে হাসপাতালগুলি তাদের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের ক্ষমতা বাড়াতে পারবে।
একইসঙ্গে টানা দীর্ঘদিন লকডাউন বা সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এর বিরোধিতা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সময় জনসাধারণের মধ্যে কোনও প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় না। সেজন্য মাঝে মাঝে লকডাউনে ছাড় দেওয়া দরকার।
বিজ্ঞানীরা গবেষণাপত্রের শেষে লিখেছেন, কোভিড ১৯ সম্পর্কে একটা ব্যাপার আমরা নিশ্চিতবভাবেই জানতে পেরেছি। রোগটা এখন থাকতে এসেছে। ২০০২-০৩ সালে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সার্স নামে একটি রোগ। কিন্তু এখন তা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। কোভিড ১৯ এর ক্ষেত্রে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।