রেমডেসিভির ভাইরাস নির্মূল করতে পারে, করোনা রোগীদের উপর ভাল কাজ করছে, দাবি মার্কিন বিশেষজ্ঞের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইবোলার ড্রাগ রেমডেসিভিরের ট্রায়াল ব্যর্থ নয়। করোনা রোগীদের উপরে এই ওষুধের সুফল লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর ও হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
শেষ আপডেট: 29 April 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইবোলার ড্রাগ রেমডেসিভিরের ট্রায়াল ব্যর্থ নয়। করোনা রোগীদের উপরে এই ওষুধের সুফল লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর ও হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফৌসি।
অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালাচ্ছে ওই ওষুধের নির্মাতা সংস্থা গিলেড সায়েন্সেস। মানুষের শরীরে এই ওষুধের প্রভাব কী হচ্ছে সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ফাঁস হয়ে গেছে বলেই দাবি করেছিল ফিনান্সিয়াল টাইমস। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২৩৭ জন রোগীর ১৫৮ জনকে ওষুধ খাইয়ে দেখা গেছে তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। যদিও এই রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে মুখ খোলেনি গিলেড সায়েন্সেস।
মার্কিন এপিডেমোলজিস্ট ফৌসি বলেছেন, রেমডেসিভির করোনা রোগীদের উপর ভালই কাজ করছে। তিনি জানান, আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ার নানা জায়গায় ১,০৬৩ জন কোভিড পজিটিভ রোগীকে এই ওষুধ খাইয়ে দেখা গেছে তাঁদের সংক্রমণ কমতির দিকে। রেমডেসিভির ভাইরাস নির্মূল করতে পারে বলেই দাবি করেছেন ফৌসি।
অন্যদিকে, গিলেড সায়েন্সেস তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে জানিয়েছে, সংক্রমণ যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে খুব দ্রুত কাজ করছে এই ওষুধ। তবে সংক্রমণ গভীরে ছড়িয়ে গেলে সেক্ষেত্রে রেমডেসিভির কেমন কাজ করবে সেটা এখনও গবেষণার পর্যায়তেই রয়েছে। সংস্থার দাবি, করোনার সংক্রমণ শুরুতে ধরা পড়েছে এমন ৬২% রোগী রেমডেসিভির ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে গেছেন। ৩৯৭ জন রোগীর উপরে এই ওষুধের ট্রায়াল চলছে। পাঁচদিন ও দশ দিনের বিরতিতে ওষুধ খাইয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ এমার্জেন্সি প্রোগ্রামের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর মাইকেল রায়ান বলেছেন, “রেমডেসিভির নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। এই ওষুধ কতটা কার্যকরী তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আরও অনেক অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধেরই ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে যার মধ্যে রেমডেসিভির একটি। এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফল সার্বিকস্তরে খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
গিলেড সায়েন্সেস জানিয়েছিল, রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ (Nucleotide Analog)। আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ। তাই ইবোলার উপরেও এই ওষুধ কার্যকরী হবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু আদতে দেখা যায় ইবোলা আক্রান্তদের উপরে এই ড্রাগ তেমনভাবে কাজ করেনি। অথচ পরবর্তীকালে সার্স ও মার্স রোগীদের উপর এই ওষুধ ভালভাবে কাজ করে। ভারতেও এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। এপিডেমোলজি অ্যান্ড কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রধান রমন আর গঙ্গাখেদকার বলেছিলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্যই ব্যবহার করা হয়েছিল রেমডেসিভির। তাতে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ রোগীর শ্বাসের সমস্যা কমিয়েছে এই ওষুধ।