
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 29 April 2025 13:18
দ্য ওয়াল: দিঘা (Digha) জুড়ে তুঙ্গে ব্যস্ততা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে যজ্ঞ অনুষ্ঠান (Jagannath Temple in Digha)। চলবে দিনভর। বিকেলে পূর্ণাহুতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamama Banerjee)।
বুধবার ভগবান জগন্নাথের প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনের অনুষ্ঠান হবে। যাকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই সৈকত শহরে বাড়ছে পুর্ণ্যার্থীদের ভিড়। মঙ্গলবার নতুন করে আরও অনেক পূণ্যার্থী এসেছেন। একদিকে মন্দিরের ভেতরে যেমন চলছে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান তেমনই বিপুল জন সমাগম সামলাতে দিঘাজুড়ে পুলিশি নজরদারি চোখে পড়ার মতো।
সূত্রের খবর, দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে হোম যজ্ঞ। রাজেশ দ্বৈতাপতির পাশাপাশি পুজোর আচার অনুষ্ঠানের জন্য পুরী থেকে দিঘায় এসেছেন আরও ৫৭ জন সেবক। এছাড়াও ইসকনের ১৭ জন সন্ন্যাসীর তত্ত্বাবধানে চলছে যজ্ঞের কাজকর্ম। মন্দিরে জগন্নাথের প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে মোট এক কোটিবার নরসিংহ মন্ত্রোচ্চারণ করছেন সেবকরা। মঙ্গলবারের হোমযজ্ঞের জন্য আনা হয়েছে ১০০ কুইন্টাল আম, বেলকাঠ এবং ২ কুইন্টাল ঘি।
জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে বাকি দেবদেবীর আহ্বান পর্ব শেষ হয়েছে। হয়েছে জগন্নাথের দুধস্নানও। পুরীর মতো এখানেও সুদর্শন দেব, দেবী লক্ষ্মী, বিমলা ও সত্যভামাকে অধিষ্ঠিত করা হবে।
মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য় রাধারমণ দাস জানান, এদিন মূল যজ্ঞর পর সন্ধেয় ফুলে সাজানো বিছানায় শোয়ানো হবে জগন্নাথ দেবকে। পরের দিন অর্থাৎ অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্যলগ্নে পাথরের বিগ্রহের জগন্নাথ দেব ও রাধা-কৃষ্ণর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, "অক্ষয় তৃতীয়ার দিন প্রথমে ভগবানকে সোনা, রুপো ও তামার তার দিয়ে বেঁধে সেই তারকে প্রধান পুরোহিতের কোমড়ে বাঁধা হবে। এরপর ঘট স্থাপন, কুণ্ড ও অবশেষে প্রতিবিম্ব।"
মন্দির সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে মহাযজ্ঞের জন্য পেঁড়া, খাজা, গজা, রসগোল্লা ইত্যাদি মিষ্টি তৈরিও করা হচ্ছে। পুরীতে যেরকম জগন্নাথের প্রসাদ হিসেবে খাজা দেওয়া হয়, তেমনই দিঘাতেও ঠাকুরের প্রসাদ হিসেবে পেঁড়া এবং গজা দেওয়ার কথাও আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তদারকির কাজ খতিয়ে দেখতে সোমবার দুপুরেই দিঘাতে পৌঁছেও গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সবকিছুর তদারকিও করছেন। বিকেলে ও সন্ধেতে মন্দির পরিদর্শন করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সমুদ্রের জন্য পর্যটকরা দিঘা আসেন, এবার তার সঙ্গে জুড়ে গেল জগন্নাথের মন্দিরও। ফলে দিঘা আধ্যাত্মিকতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হল। যা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।