দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ থেকে দেশে শুরু হয়েছে লকডাউন। থমকে গিয়েছে দেশের অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আশঙ্কা, এর ফলে বেশ কয়েকটি কোম্পানি দেউলিয়া হতে পারে। তা যাতে না হয়, সেজন্য একটি বিশেষ অর্ডিন্যান্স আনছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে লকডাউনের আগেই যে কোম্পানিগুলিকে দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই অর্ডিন্যান্স কার্যকরী হবে না।
একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ইনসলভেন্সি ও ব্যানক্রাপসি কোডে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হবে। তাতে কোনও কোম্পানিকে দেউলিয়া ঘোষণা করার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হবে ছ’মাস। বিশ্ব জোড়া অতিমহামারীর গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখে আগামী দিনে এই ছাড়ের সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
দীর্ঘ লকডাউনের ফলে বহু কোম্পানি চুক্তিমতো কাজ করতে পারবে না। অনেক কোম্পানি সময়মতো পাওনা মেটাতে পারবে না। আগে এই কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু করোনা সংকটের কথা মাথায় রেখে তাদের কিছু ছাড় দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেছেন, লকডাউন যদি ৩০ এপ্রিলের পরেও চলে তাহলে সরকার দেউলিয়া সংক্রান্ত বিধির কয়েকটি ধারা ছ’মাস কার্যকর নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে লকডাউনের মধ্যে কোনও কোম্পানি যদি ঋণ শোধ না করতে পারে, তাহলেও অন্তত ছ’মাস পাওনাদাররা তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে না।
এর পাশাপাশি শ্রম বিধি বদলাতেও অর্ডিন্যান্সের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। মোট চারটি শ্রম বিধি পরিবর্তন করা হবে বলে স্থির হয়েছিল। সেগুলি ইতিমধ্যে সংসদে পেশ করা হয়েছে। তার মধ্যে বেতন সংক্রান্ত বিধি পাসও হয়ে গিয়েছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন, বোনাস, সম কাজে সম বেতন ইত্যাদি বিষয়গুলি বেতন সংক্রান্ত বিধির সঙ্গে যুক্ত। অপর তিনটি বিধি কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্সের পথে যাবে। তার মধ্যে অন্যতম সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধি।
সামাজিক সুরক্ষা বিধির মধ্যে আছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, বিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ইত্যাদি। এছাড়া আছে শিল্পে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিধি। তার মধ্যে আছে ট্রেড ইউনিয়ন ও সেই সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়। একইসঙ্গে কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি নিয়েও অর্ডিন্যান্স আনা হবে।
গতবছর জুন মাসে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ৪০ টির বেশি শ্রম বিধিকে কমিয়ে মাত্র চারটি বিধি করা হবে। তাতে বিদেশি সংস্থাগুলি অনেক সহজে ভারতে ব্যবসা করতে পারবে। তখনই অর্থনীতির বিকাশ হয়ে পড়েছিল ধীর। সেই পরিস্থিতিতে শ্রম সংক্রান্ত বিধিগুলি সরল করার চেষ্টা হয়েছিল। এরপর বিশ্ব জুড়ে করোনা অতিমহামারী দেখা দেয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর পরে বিশ্ব অর্থনীতিতে আসবে মন্দা। তার প্রভাব এড়াতে পারবে না ভারত। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্যই সহজ করতে হবে শ্রম বিধি। সেজন্য অর্ডিন্যান্সের পথে যেতে হচ্ছে সরকারকে।