দ্য ওয়াল ব্যুরো : ফোন থেকে ফুয়েল। লকডাউনের মধ্যে যাতে দেশের নানা লাইফলাইন চালু থাকে, সেজন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন রিলায়েন্সের কয়েক হাজার কর্মী। সোমবার রিলায়েন্সের কর্ণধার মুকেশ আম্বানি তাঁদের ‘করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মুখ সারির যোদ্ধা’ বলে অভিনন্দন জানালেন। সংস্থার দু’লক্ষ কর্মীকে মেল করে তিনি জানিয়েছেন, যেভাবে তাঁরা আধুনিক যুগের সবচেয়ে সাংঘাতিক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি আপ্লুত।
করোনা ঠেকাতে ২৪ মার্চ তিন সপ্তাহের লকডাউন করা হয়েছে দেশ জুড়ে। এই পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষ আছেন ঘরে। কিন্তু রিলায়েন্সের টেলিকম ব্যবসা জিও ৪০ কোটি মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। জিও-র মাধ্যমে তাঁরা মোবাইলে ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের সুবিধা পাচ্ছেন।
রিলায়েন্স রিটেল এই সময় লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে চলেছে। রিলায়েন্স লাইফ সায়েন্স ভারতে কোভিড ১৯ পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নতি ঘটিয়ে চলেছে। স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ১০০ টি বেড আলাদা করে রাখা হয়েছে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য।
এর পাশাপাশি রিলায়েন্সের তৈল শোধনাগারগুলি নিয়মিত জ্বালানি ও অন্যান্য পেট্রলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করে চলেছে। তার মধ্যে ওষুধ ও চিকিৎসার যন্ত্রপাতি প্যাকেজিং-এ ব্যবহৃত হয় এমন পদার্থও আছে।
গত ৪ এপ্রিল মুকেশ কোম্পানির অভ্যন্তরে এক বার্তায় জানান, সংস্থার প্রত্যেক কর্মী ও তাঁদের পরিবার সহজে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে তিনি ‘মাইভয়েস’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেন যা কর্মীদের মতামত বিনিময়ে সহায়তা করে।
মুকেশ এদিন বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের ব্যবসায় যুক্ত প্রত্যেক সহকর্মী সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসাবে সম্মানিত হওয়ার যোগ্য।” তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে রিলায়েন্স অত্যন্ত ভাল কাজ করেছে। কিন্তু করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে পূর্ণ বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত থামার প্রশ্নই নেই।
তাঁর কথায়, “জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা খুবই গুরুতর। তার ওপরে আছে অর্থনৈতিক আর মানবিক সংকট। সেই সংকটগুলিরও মোকাবিলা করতে হবে। আমি মনে করি, রিলায়েন্স পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই ভারতকে আরও নিরাপদ, স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন।”
মুকেশ কর্মীদের মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং রিলায়েন্সের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী দিনেও যেন আমরা তাঁর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি।