দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু দিন আগেই একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট বলেছিল, লকডাউনের সময়ে বাড়ির ভিতরে গৃহহিংসা অনেক বেড়ে গেছে। মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল এই রিপোর্টে। এবার রাষ্ট্রসংঘের তরফে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, উদ্বাস্তু মহিলা ও শিশুরা এই মহামারীর সময়ে আরও ভয়ংকর ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির জেরে কার্যত গোটা বিশ্বেই অচলাবস্থা জারি হয়েছে। অসুখের আতঙ্কের পাশাপাশিই চার দিকে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। স্বাভাবিক ভাবেই মূলত গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলি এই অর্থনৈতিক ধাক্কার শিকার। এসবেরই মাঝে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল রাষ্ট্রসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সূত্র। 'ইইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশন ফর রিফিউজি' জানিয়েছে, এই সময়ে উদ্বাস্তু মহিলাদের উপরে ধর্ষণের ঘটনাই হোক বা ছোট মেয়েদের চুপচাপ বাল্যবিবাহ দিয়ে দেওয়াই হোক-- এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই কমিশনের এক কর্তা গ্রিলিয়ান ট্রিগস্ জানিয়েছেন, তথ্য যা বলছে তা ভয়াবহ। এই সময়ে উদ্বাস্তু মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তার ওপরে বিশেষ নজর দিতে হবে। রাজ্যহীন মানুষেরা এমনিতেই সহজে সামাজিক সমস্যার শিকার হন। এখন ক্রাইসিসের সময়ে অদ্ভুত ভাবে সেটা আরও বেড়েছে। এই মুহূর্তে উদ্বাস্তু মহিলারাই সব থেকে বেশি বিপদে আছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি এও উল্লেখ করেছেন, এই খারাপ সময়ে সুযোগের অপব্যবহারকারীদের কোনও রকম ছাড় দেওয়া যাবে না।
ট্রিগস্ দাবি করেছেন, এই দুর্দিনে বাস্তুচ্যুত পরিবারের মহিলাদের আর্থিক অনটনের কারণে প্রায়ই যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। একই ভাবে উদ্বাস্তু শিশুদের উপর অত্যাচারও যথেষ্ট হারে বেড়েছে। কমিশন আরও একটি কারণ হিসেবে জানিয়েছে, মহামারীর দাপটে বিভিন্ন জায়গার যোগাযোগ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই সাহায্য পাওয়া কঠিন হচ্ছে আক্রান্তদের। আর্থিক ভাবেও তাদের সাহায্য করা কঠিন হয়ে পড়েছেয আর এই অবস্থারই সুযোগ নিচ্ছে নির্যাতনকারীরা।
কমিশনের কর্তারা একথাও জানিয়েছেন, এই সময়ে এই গৃহহীন মহিলাদের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঝুঁকি নিয়েই চলাফেরা করছেন বড় দূরত্ব। এই ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন দেশে এই ধরনের সমস্যায় পড়া নিপীড়িত মহিলাদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করার চেষ্টার কথাও জানিয়েছে রিফিউজি কমিশন।
ট্রিগস এবিষয়ে আরও বলেছেন, "যে সব দেশের সরকার কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনাই নিচ্ছে না কেন, সেখানে দেশের উদ্বাস্তু মহিলাদের নিরাপত্তাজনিত বিষয়টা আলাদা করে বিবেচনা করা উচিত।"
বস্তুত, অসুখের ভয় এবং অর্থনৈতিক সংকট-- এই দুইয়ের মেলবন্ধনই বিশেষ ভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছে উদ্বাস্তু মহিলাদের জীবন। বহু ক্ষেত্রেই কেবল অর্থের জন্য আপস করতে রাজি হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা, কারণ অসুখের ঝুঁকিতে জীবনযাত্রা আরও বেশি সীমিত হয়ে গেছে তাঁদের। রাষ্ট্রহীনতার ভয় ও অসহায়তা এমনিতেই যাঁদের নিত্যসঙ্গী, তাঁদের প্রতি অন্যায় ও বঞ্চনাও বেশি হয় স্বাভাবিক নিয়মেই।
কিন্তু এই বিশ্বজোড়া মহামারীর সময়ে যে তার মাত্রা আরও বাড়বে, পরিস্থিতির সুযোগ নিতে যে অনেকেই মুখিয়ে থাকবেন, তা বোধহয় ধারণার বাইরে ছিল।