
শেষ আপডেট: 26 August 2020 18:30
‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজ়ারভেশন অব নেচার’ (IUCN) তাদের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানিয়েছে, একসময় ভারতে রেড পান্ডাদের সংখ্যা ছিল দশ হাজারের কাছাকাছি। এখন সেই সংখ্যা পাঁচ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, গত ১৮ বছরে রেড পান্ডা প্রজাতির প্রায় ৫০ শতাংশই বিলুপ্ত হয়ে গেছে নানা কারণে। সংক্রামক রোগ, প্রজননে ব্যাঘাত, জঙ্গল ধ্বংসের ফলে বসতির অভাব যার অন্যতম প্রধান কারণ। তবে প্রাণীবিদরা বলছেন, রেড পান্ডাদের বিলুপ্তির সবচেয়ে বড় কারণ হল চোরাশিকার। চামড়া, লোমের জন্য ফি বছর শয়ে শয়ে রেড পান্ডা শিকার করা হয় বেআইনি পথে। পাহাড়ি এলাকায় পান্ডা শিকার করে চামড়া বিদেশে চালান করার কাজও চলে।
ভারতে সিঙ্গলিলা জাতীয় উদ্যান একসময় রেড পান্ডাদের নিরাপদ আশ্রয় ছিল। সিঙ্গলিলা হল পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার অবস্থিত একটি ন্যাশনাল পার্ক। পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে নেপাল ও সিকিম সীমান্তে অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানে ওক, হেমলক, দেবদারু, বার্চ জাতীয় গাছ থাকায় রেড পান্ডা সংরক্ষণের মতো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা গিয়েছিল। ১৯৯৪ সালে সিঙ্গলিলায় পান্ডা সংরক্ষণ ও ব্রিডিং প্রোগ্রাম কর্মসূচী নেওয়া হয়। ২০০৩ সালে ২২টি রেড পান্ডা নিয়ে এসে এই জাতীয় উদ্যানে সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়। প্রথম প্রথম পান্ডাদের সংখ্যা বাড়ে। প্রজননের পরে কয়েকটি স্ত্রী পান্ডাকে উদ্যান লাগোয়া জঙ্গলের কোর এলাকায় ছেড়ে দিয়েও আসা হয়েছিল। কিন্তু উনিশের শেষে এসে দেখা যায় পান্ডাদের সংখ্যা আর বিশেষ বাড়েনি।
আইইউসিএন জানাচ্ছে, সিঙ্গলিলা জাতীয় উদ্যানে রেড পান্ডাদের সংখ্যা কমে যাওয়ার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে উদ্যান লাগোয়া গ্রামবাসীদের বক্তব্য ছিল, লোকালয়ে ঢুকে পড়া পান্ডাদের নির্বিচারে শিকার করা হয়েছে। তাছাড়া কোনও কারণে উদ্যানের বাইরের রাস্তায় চলে এলে দুর্ঘটনাতেও মৃত্যু হয়েছে পান্ডাদের।
সমীক্ষা বলছেন, সিকিম, আসাম, ভুটান, উত্তর অরুণাচলপ্রদেশ ও দক্ষিণ তিব্বতেও একসময় রেড পান্ডা দেখা যেত। এখনও সেই সংখ্যা হাতে গোনা। যারা টিকে রয়েছে তাদের চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসে সংরক্ষণ করার চেষ্টা চলছে।
প্রাণীবিদরা বলছেন, ২২০০ থেকে ৪৮০০ মিটার উচ্চতায় যেখানে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি, রেড পান্ডারা সেখানেই ভালভাবে বসতি গড়ে তুলতে পারে। ২০০৭ সালে নেপালের রারা জাতীয় উদ্যানের রেড পান্ডাদের সংরক্ষণ করার কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখন সেখানেও পান্ডাদের সংখ্যা অনেক কম।
প্রাণীবিদরা বলছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে এখনও অবাধে পান্ডা শিকার চলে। জঙ্গল কেটে ফেলার ফলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাচ্ছে এই বিরল প্রজাতির প্রাণীরা। খাদ্যের অভাব হচ্ছে, নানা রকম রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে পান্ডারা এবং মানুষের কাছাকাছি চলে আসার ফলে তাদের প্রজননেও ব্যাঘাত ঘটছে। দক্ষিণ-পশ্চিম চিনে রেড পান্ডাদের লোম ও লোমশ লেজ দিয়ে টুপি তৈরি হয়। চিনেদের কাছে রেড পান্ডার লেজ দিয়ে তৈরি টুপি নাকি সৌভাগ্যের প্রতীক। তাই সেখানেও অবাধে পান্ডা শিকার চলে।