
রবিবার মধ্যরাত থেকে যে দুর্যোগ শুরু হয়েছে, তা সোমবারও শেষ হচ্ছে না
শেষ আপডেট: 27 May 2024 09:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তীব্র ঘূর্ণিঝড় রূপেই স্থলভাগে ঢুকেছে রেমাল। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শেষ হয়। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার মধ্যরাত থেকে যে দুর্যোগ শুরু হয়েছে, তা সোমবারও শেষ হচ্ছে না। আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর থেকে ঘূর্ণিঝড় বদলে যাবে গভীর নিম্নচাপে। তবে গোটা রাজ্যেই ঘূর্ণিঝড় এবং পরবর্তী নিম্নচাপের প্রভাব থাকবে। পাহাড় ছাড়া রাজ্যের সর্বত্র চলবে ঝড়বৃষ্টি।
নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর প্রতি ঘন্টায় রেমালের গতিবেগ থাকবে ৭০ কিলোমিটার। আজ বিকেলের মধ্যে এটি সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হবে। ইতিমধ্যে রেমাল ক্রমশ উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহের কাছাকাছি দিয়ে এটি পৌঁছে যাবে উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের সব থেকে বেশি বৃষ্টি হবে। দু এক জায়গায় প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম জেলায় অতিভারী বৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় দমকা ঝড়ো বাতাস বইতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান এই জেলাগুলিতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় দমকা বাতাস বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাতেও ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগে বাতাস হইতে পারে।
সোমবার বিকেল থেকে কলকাতা সহ উপকূল সংলগ্ন এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হাওয়া বদলের পূর্বাভাস রয়েছে।
সোমবার কলকাতায় দিনভর মেঘলা আকাশ থাকবে। রেমালের জেরে হালকা ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ঘন্টায় ২০ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গের মালদা এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়িতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি আরও বাড়বে। ২০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলায়। দার্জিলিং, কালিম্পং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এরপর বুধবারও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়।