
শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র এবং সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 November 2024 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অজানা রহস্য উদঘাটনে এবার ধৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র এবং সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়- তিনজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করবে সিবিআই।
এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি মেনে আদালত তিনজনেরই সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। শান্তনু ও সন্তুকে আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত এবং সুজয়কৃষ্ণকে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে সিবিআই বিশেষ আদালতে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মঙ্গলবার একাধিক শর্তে ইডির মামলা থেকে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তবে আরও একাধিক মামলার অভিযোগ থাকায় এখনই জেলমুক্তি ঘটছে না এই তৃণমূল নেতার। এর মধ্যে ফের তাকে কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র এবং সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় সিবিআই। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আর্জি মেনে তিনজনেরই সিবিআই হেফাজত মঞ্জুর করে আদালত।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার পার্থ 'ঘনিষ্ঠ' সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে সন্তু এজেন্ট হিসাবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ। সন্তুর কাছেই নাকি নিয়োগ দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা জমা পড়েছে। এপ্রিল মাসে সন্তুকে ডেকে পাঠিয়ে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। তাঁর বাড়িতে তল্লাশিও চালানো হয়েছিল। মে মাসেও অভিযুক্ত 'এজেন্ট'কে তলব করা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, বেহালাবাসী সন্তুর সঙ্গে হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত ব্যবসায়ী অয়ন শীল, এমনকি সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে 'কালীঘাটের কাকু'-রও যোগাযোগ ছিল। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডির কাছে সন্তুর কথা প্রথম বলেছিলেন অয়ন। টেট ‘দুর্নীতি’র পাশাপাশি পুরনিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডেও নাম জড়িয়েছিল তাঁর।
অন্যদিকে শান্তনু এই দুর্নীতি চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বলেও দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। কারণ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের একটি তালিকা উদ্ধার হয়েছিল। পাশাপাশি একাধিকজনকে চাকরি পাইয়ে দিয়ে ১ কোটির বেশি টাকা নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। তাঁর স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রতারণার অভিযোগ। এবার সন্তু গ্রেফতার হওয়ায় তাদের মুখোমুখি জেরা করে নিয়োগ দুর্নীতির অজানা রহস্য উদঘাটন করতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।