দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ দেশে করোনা আক্রান্তদের সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা যত বাড়ছে, তাতে এই ইঙ্গিত স্পষ্ট, যে আরোগ্য লাভ করার হার বাড়ছে দেশজুড়ে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, রবিবার এই সুস্থতার হার ১৪.২ শতাংশ। যেখানে শনিবার এই সুস্থ হয়ে ওঠার হার ছিল ১৩.৮৫ শতাংশ, শুক্রবার ছিল ১৩ শতাংশ, বৃহস্পতিবার ছিল ১২ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর মধ্যে মোট ২৩০২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লভ আগরওয়াল রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ১৩৩৪ জন নতুন রোগী কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৭ জন। এই মুহূর্তে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার পেরিয়েছে, কিন্তু মৃত্যু হয়েছে ৫১৯ জনের। অর্থাৎ এখন করোনায় দেশের মৃত্যুহার ৩.২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, গত ১৪ দিন ধরে দেশের ৪৩টি জেলা থেকে কোনও নতুন করোনার খবর আসেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে ভারতের করোনা লড়াই বেশ আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। করোনার ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ এখন অনেকটাই স্তিমিত।
লভ আগরওয়ালের মতে, সোমবার থেকে কোনও কোনও সংক্রমণ-মুক্ত এলাকায় লকডাউন খানিকটা শিথিল করা যেতে পারে। কিন্তু হটস্পটগুলিতে কড়া নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা চলবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, করোনা রোধে ড্রাগ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য যে গবেষণা চলছে, তা আরও আগ্রাসী হয়েছে রবিবার থেকে। একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্ক ফোর্সও গঠিত হয়েছে। নীতি আয়োগের সদস্য এবং আয়ুষ, আইসিএমআর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক, জৈবপ্রযুক্তি, সিএসআইআর, ডিআরডিও, ড্রাগ কন্ট্রোল ইত্যাদি সমস্ত বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্তারা রয়েছেন এই টাস্ক ফোর্সে।
এই মুহূর্তে দেশের হটস্পটগু এবং রেড জ়োনগুলিকে নিয়েই সবচেয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। কারণ একটু শিথিল হলেই চার দিনে দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে এই এলাকাগুলির সংক্রমণের সংখ্যা। লভ আগরওয়ালের কথায়, "হটস্পটগুলির স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে এ বিষয়ে। কোনও রকম রেয়াৎ করা চলবে না লকডাউনের সঙ্গে। ছড়াতে দেওয়া যাবে না সংক্রমণ। জরুরিতম পরিষেবা ছাড়া আর কিছু চলতে দেওয়া যাবে না। ৩ মে পর্যন্ত এমনটাই চলবে।"
তিনি মনে করিয়ে দেন, বন্ধ থাকবে রাস্তা, রেল, স্কুল, অফিস, সিনেমা হল, শপিং মল, পার্ক। কোনও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় জমায়েত চলবে না। কেবল চাষবাসের ক্ষেত্রে একটু আলগা করা যেতে পারে নিষেধাজ্ঞা, রোজকার উপার্জনের ক্ষেত্রে ভেবে দেখা যেতে পারে পরিস্থিতি। স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জরুরি পরিষেবা চলবে।