দ্য ওয়াল ব্যুরো : “নাগরিকদের জীবনের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”। শুক্রবার কানওয়ার যাত্রা নিয়ে শুনানির সময় এই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। উত্তরাখণ্ড সরকার করোনা পরিস্থিতিতে ওই যাত্রা বাতিল করে দিয়েছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার চায়, ‘প্রতীকি’ কানওয়ার যাত্রা করা হোক। এসম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের সদস্য, বিচারপতি আর এফ নরিম্যান বলেন, “ধর্মীয় ভাবাবেগের চেয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
বিচারপতির কথায়, “প্রাথমিকভাবে মনে হয়, এক্ষেত্রে আমাদের সকলেরই উদ্বেগের কারণ আছে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য তথা জীবনের অধিকারকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ধর্মীয় ভাবাবেগ বা অপর কোনও ভাবাবেগ তার চেয়ে বড় নয়।” এরপর সুপ্রিম কোর্ট বলে, যোগী আদিত্যনাথ সরকার যদি কানওয়ার যাত্রা নিয়ে পুনর্বিবেচনা না করে, তাহলে আমরা এসম্পর্কে নির্দেশ দিতে বাধ্য হব।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে, অতিমহামারীর সময় কোনও রাজ্যে তীর্থযাত্রীদের চলাচলে অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তার বদলে রাজ্যগুলি ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে ভক্তদের কাছে গঙ্গাজল পৌঁছে দিক।
এর আগে গত ১৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জানতে চায়, অতিমহামারীর মধ্যে তীর্থযাত্রায় অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কেন? ১৩ জুলাই যোগী আদিত্যনাথ সরকার কানওয়ার যাত্রার অনুমতি দেয়। সরকার বলে, অন্যবার প্রভু শিবের আরাধনার জন্য হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়। কিন্তু এবার যথাসম্ভব কম তীর্থযাত্রী নিয়ে কানওয়ার যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। তীর্থযাত্রীরা আরটি-পিসিআর টেস্ট করাবেন। রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তবেই তীর্থযাত্রায় অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত নিজে থেকেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে জিজ্ঞাসা করে, এখন তীর্থযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কেন?
এপ্রিলের মাঝামাঝি হরিদ্বারে অনুষ্ঠিত হয় কুম্ভমেলা। দেশ জুড়ে যখন করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ তুঙ্গে, তখন হরিদ্বারে পুণ্যস্নানের জন্য ভিড় করেন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী। বিশেষত শাহী স্নান উপলক্ষে প্রায় এক লক্ষ মানুষ গঙ্গায় পুণ্যস্নান করেন। কোভিড বিধি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে ওই বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত হয়। পুণ্যার্থীরা প্রায় কেউই মাস্ক পরেননি। সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখেননি। পুণ্যার্থীদের মধ্যে ছিলেন কয়েক হাজার সাধু। তাঁরা ১৩ টি আখড়ার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।
মেলা প্রাঙ্গণে উত্তরাখণ্ড সরকার থেকে পোস্টার দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, 'দাওয়াই ভি কড়াই ভি'। অর্থাৎ কোভিডের প্রতিষেধক নিতে হবে। সেই সঙ্গে কোভিড বিধিও মেনে চলতে হবে। কিন্তু পুণ্যার্থীরা অনেকে বলেছিলেন, মেলার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অন্যান্য কোভিড বিধি মেনে চলা সম্ভব নয়।
মেলা শেষ হওয়ার পরে জানা যায়, সাধুসন্ত, ভক্তদের করোনা পরীক্ষার বেশিরভাগই রিপোর্টই ছিল জাল, নকল! ১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হরিদ্বারে অনুষ্ঠিত কুম্ভমেলায় ৯টি এজেন্সি ও ২২টি বেসরকারি ল্যাব প্রায় চার লক্ষ করোনা পরীক্ষা করায়। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরও সরকারি ল্যাবে নিজেরা টেস্ট করায়।
তদন্তে জানা যায়, এক লাখ টেস্টের রিপোর্টের ক্ষেত্রে জালিয়াতি করেছে একটি বেসরকারি এজেন্সি। অধিকাংশ ঠিকানা, ফোন নম্বর ভুল দেওয়া হয়েছিল। একটি ক্ষেত্রে একটিই ফোন নম্বর দিয়ে ৫০ এর বেশি লোকের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। একটি অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটে ৭০০ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অথচ একটি কিটে একটি নমুনারই পরীক্ষা হওয়ার কথা!