দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্থিক শ্লথগতি, উপত্যকা অবরুদ্ধ থাকার মতো বিষয়ে এখন সরব বিরোধীরা। নাগরিকত্ব বিল নিয়ে এগোতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। এই অবস্থায় আজ সোমবার শুরু হল সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। চলেবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অধিবেশন শুরুর দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিলেন, তিনি উচ্চমানের বিতর্ক আশা করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনও বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত।
সংসদ থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাংবাদিকদের বলেন, সংসদের গত অধিবেশনেও তিনি আরও উচ্চমানের বিতর্ক আশা করেছিলেন যেখানে সব সাংসদ যোগ দেবেন। এ দিনও তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে একই কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি চাই সেরা বিতর্ক এবং আশা করব প্রতিটি দলই গঠনমূলক ও স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে যোগ দেবেন, যা তাঁরা গত অধিবেশনে করেছিলেন। ২০১৯ সালে এটাই সংসদের শেষ অধিবেশন। এই অধিবেশন বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এবারই রাজ্যসভার ২৫০তম অধিবেশেন। এই অধিবেশনের মধ্যেই পড়ছে ২৬, যে দিন আমরা সংবিধান দিবস পালন করব, সংবিধান পূর্ণ করবে ৭০ বছর।”
অগস্ট মাস থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে কাশ্মীর, দেশজুড়ে চলছে আর্থিক শ্লথগতি। বিরোধীরা এই সব প্রসঙ্গ তুলে সরকারকে আক্রমণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত অধিবেশনে নজিরবিহীন সাফল্য এসেছে, শুধুমাত্র সরকারপক্ষের জন্য তা হয়নি, তা সম্ভব হয়েছে বিরোধী দলগুলি সদর্থক ভূমিকা পালন করায়।” রবিবারই সর্বদল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, বিগত অধিবেশনের মতো শীতকালীন অধিবেশনও সার্থক হোক এটাই তিনি চান।
লোকসভার আগের অধিবেশনে নির্দল ও আঞ্চলিক ছোট দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী শিবিরকে চমকে দিয়েছিল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে আসা বিজেপির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কংগ্রেস, বিরোধী শিবিরও ছিল ছন্নছাড়া অবস্থায়। রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা বিজেপিকে আটকাতে পারেনি বিরোধীরা।
তবে এখন পরিস্থিতি ঠিক ততটা অনুকূল নেই এনডিএ-র। সবচেয়ে পুরনো শরিক শিবসেনা তাদের সঙ্গ ছেড়েছে। সঙ্গ ছাড়ার আগে থেকেই তারা অভিযোগ করে আসছিল আর্থিক শ্লথগতি নিয়ে। তা ছাড়া নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা রয়েছে – একাংশ মনে করছে এই বিল মুসলমানবিরোধী।
এ বছর জানুয়ারি মাসেই লোকসভায় এই বিল এনেছিল বিজেপি, কিন্তু প্রবল বিরোধিতার জন্য রাজ্যসভায় তা পেশই করা হয়নি। বিজেপি চায় এই বিল এবার পাস হোক সংসদে।