
শেষ আপডেট: 20 February 2020 18:30
এনএইচসি-র রিপোর্ট বলছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণে ২০০ জন আসামি ও সাতজন পুলিশকর্মী আক্রান্ত। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা চারশো ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই প্রায় ২২ হাজার পুলিশকর্মী ভাইরাসের টেস্ট করিয়েছিলেন। তার সব রিপোর্ট এখনও আসেনি। চিনের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, স্কুল ও কলেজগুলিতেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের টাসাঠাসি ভিড় কমাতে উহানে ইতিমধ্যেই উহানে হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরির কাজ শেষ। রোগীদের রাখা হয়েছে বিশেষভাবে তৈরি আইসোলেশন ওয়ার্ডে। তবে চিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে গিয়ে চিনে ১৭০০ জনেরও বেশি চিকিৎসাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। দিনকয়েক আগেই উহানের সেন্ট্রাল হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন ৩৪ বছরের লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। রোগীদের শুশ্রুষায় নিযুক্ত থাকাকালীন সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। খবর ছড়ায়, নোভেল করোনা নিয়ে নাকি আগেই সতর্ক করেছিলেন এই ডাক্তার। তিনি প্রথম বলেছিলেন, এক বছর ধরেই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চিনে এবং এই কথা নাকি আড়াল করে রেখেছে চিনের কম্যুউনিস্ট পার্টি। করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক করে সরকারের বিষনজরে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না বলে মুচলেকাও দিতে হয়েছিল।
নোভেল করোনাভাইরাস নেহাতই সংক্রামিত ভাইরাস নয়, বরং এর জিনের বদল ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে ল্যাবোরেটরিতে। রাসায়নিক যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে বেজিং, এমন খবর ছড়াতেই শোরগোল শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এরই মধ্যে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের একটি বক্তৃতা ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। যেখানে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, দেশের মানুষকে সচেতন করার ঢের আগেই করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন প্রেসিডেন্ট। এমনিতেই করোনা নিয়ে দীর্ঘ সময়ে মুখ না খোলায় প্রেসিডেন্টের আচরণ নিয়ে জনরোষ বাড়ছিল। লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যুতে সেই রোষ আরও বাড়ে।