দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল অফশোল্ডার টপ, চূড়ো করে পনিটেল করা। খেলার মাঠে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাগ উড়িয়ে মিষ্টি হাসির সেই মেয়েটা রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর মিষ্টি হাসি, শরীরী আবেদন ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে শত শত পুরুষের হৃদয়ে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টুইটার-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মেয়ের ছবি, ভিডিও-র ছড়াছড়ি। হ্যাশট্যাগে নাম ‘আরসিবি গার্ল।’ রাতারাতি বিখ্যাত হওয়ার বিড়ম্বনা এখন নাকি প্রতি মুহূর্তে টের পাচ্ছেন তরুণী। প্রশংসার পাশাপাশি নোংরা মন্তব্যে ভরে উঠছে তাঁর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের দেওয়াল।
বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা হলেও ‘আরসিবি গার্ল’ কিন্তু বাংলারই মেয়ে। নাম দীপিকা ঘোষ। গত ৪ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচে মাঠের মধ্যমণি ছিলেন তিনিই। ওই ম্যাচে চার উইকেটে জিতেছিল আরসিবি, তবে খেলায় নজরে ছিলেন দীপিকা। দর্শকদের দিকে ক্যামেরা ঘোরাতে ঘোরাতে বারে বারেই তাঁর মুখে ফোকাস করছিল লেন্স। হাতে আরসিবি-র ফ্ল্যাগ নিয়ে দীপিকার ৫ মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড হয়ে যায়। তারপর দ্রুত সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ইনস্টাগ্রামে, সেখান থেকে ফেসবুক-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায়। দীপিকার মুখের স্ক্রিনশট নিয়ে ‘রহস্যময় মহিলা’ ক্যাপশন দিয়ে ছবি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল করে দেন অনেক ভিউয়ার।
https://www.instagram.com/p/BxDY_lnna1L/?utm_source=ig_web_copy_link
সিনেমার দৃশ্যে চোখ মেরে নেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন প্রিয়া প্রকাশ বারিয়ার। সে সময় নেটিজেনদের আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিলেন প্রিয়া। এ বার স্পট লাইটের ফোকাসে দীপিকা ঘোষ। আরসিবি ফ্যান দীপিকাকে অনেকে ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। গত কয়েকদিন তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার বেড়েছে লক্ষাধিক। কিন্তু রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে সত্যি কি ভালো আছেন দীপিকা? ‘‘এত মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি আপ্লুত। কিন্তু, আমাকে নিয়ে চর্চা বন্ধ করুন,’’ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইলে সম্প্রতি এই কাতর আবেদন জানিয়েছেন দীপিকা।
https://twitter.com/sagarcasm/status/1124747542346887168
বলেছেন, ‘‘আমি কোনও সেলিব্রিটি নই। সাধারণ একটা মেয়ে। মাঠে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। কোনও রকম দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমি কিছু করিনি, যে ভাবে আমাকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক,’’ নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন দীপিকা। জানিয়েছেন, গত দশ দিনে তাঁর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রোফাইল খুঁজে বার করে ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ পাঠাচ্ছেন যুবকরা। নোংরা মন্তব্যও করছেন অনেকে। দীপিকার কথায়, ‘‘সারা রাত ধরে আমার ইনবক্সে অত্যন্ত কুরুচিকর মেসেজ ঢোকে। আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি দেখে যে, আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লোকজন আমার থেকেও বেশি জানে। আমি শুধু আরসিবি গার্ল নই, এর পরেও আমার নিজস্বতা কিছু আছে, আমার একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে।’’

দীপিকা ইনস্টাগ্রামে বেশ অ্যাকটিভ। নিজের নানা মুহূর্তের ছবি প্রায়ই পোস্ট করেন। ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলেও তিনি নিজের বায়োডাটায় আরসিবি গার্ল লিখেছেন। সম্প্রতি সেখানেও তাঁকে নিয়ে চর্চা শুরু করেছেন নেটিজেনরা। শুরুতে মিষ্টি, সুন্দর ইত্যাদি মন্তব্য দিয়ে কমেন্ট বক্স ভরতে থাকলেও. ধীরে ধীরে কুরুচিকর, যৌন ইঙ্গিতময় কমেন্টে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তাঁর প্রোফাইলে। নেটিজেনদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আরসিবি গার্ল কাতর আর্তি জানিয়ে বলেছেন, ‘‘আমি অনুরোধ করছি একটা মেয়ের পোশাক ও চেহারা দেখে তাকে বিচার করা বন্ধ করুন। ভেবে দেখুন, একটা মেয়েকে নিয়ে সারাক্ষণ অশালীন মন্তব্য করতে থাকলে তার মানসিক অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।’’