দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার আর্থিক নীতি নিয়ে দ্বিমাসিক রিপোর্ট প্রকাশ করবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। সম্প্রতি করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট দেখা দেওয়ায় অর্থনীতিতে ফের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। এর আগে গত অক্টোবরে আর একদফা পলিসি রিভিউয়ের ফল প্রকাশিত হয়। তাতে প্রধানত সুদের হার অপরিবর্তিত ছিল। সেই নিয়ে আটবার সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
এক সংবাদ সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫০ জন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, তাঁরা মনে করেন, রেপো রেট চার শতাংশ রাখবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। রিভার্স রেপো রেট থাকবে ৩.৩৫ শতাংশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে সুদে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ককে ঋণ দেউ, তাকে বলে রেপো রেট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিজে অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে যে সুদে ঋণ নেয়, তাকে বলে রিভার্স রেপো রেট।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী বছরের শেষে রিভার্স রেপো রেট বাড়বে ৪.১০ শতাংশ। ২০২২ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে তা বাড়বে ২৫ বেসিস পয়েন্ট। তার পরের তিনটি ত্রৈমাসিকে বাড়বে আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট। মর্গান স্ট্যানলের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, তাঁরা আগে আশা করেছিলেন, ডিসেম্বরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রিভার্স রেপো রেট বাড়াবে ১৫ থেকে ২০ বেসিস পয়েন্ট। কিন্তু কোভিডের নতুন ভ্যারিয়ান্ট দেখা যাওয়ার পরে বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
কোটাক মাহিন্দ্রা গ্রুপের কনজিউমার ব্যাঙ্কিং শাখার প্রেসিডেন্ট শান্তি একামবরম বলেন, "অর্থনীতি ধীরে ধীরে চাঙ্গা হচ্ছে। বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বাজারে কাঁচা টাকার যোগানও রয়েছে যথেষ্ট। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটরি পলিসি কমিটি সম্ভবত বাজার থেকে বাড়তি কাঁচা টাকা তুলে নেবে।" শান্তি একামবরমেরও ধারণা, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হবে। স্টেট ব্যাঙ্কের রিসার্চ রিপোর্টেও বলা হয়েছে, সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সম্ভবত টানা ন'বার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে চলেছে। ২০২০ সালের ২২ মে শেষবার সুদের হার পরিবর্তন করা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে জানা যায়, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলির মধ্যে একমাত্র ভারতেই পরপর চারটি ত্রৈমাসিকে বিকাশ হয়েছে। ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি বেঙ্কট সুব্রহ্মণ্যম বলেন, অতিমহামারীর সময় এই বিকাশ অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তির পরিচয়। গত আর্থিক বছরের তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে এবং বর্তমান আর্থিক বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি বিকশিত হয়েছে।
২০২১-২২ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি বিকশিত হয়েছে ৮.৪ শতাংশ হারে। গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে অর্থনীতি বিকশিত হয়েছে ২০.১ শতাংশ হারে। ওই সময় দেশে কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ এসেছিল। তা সত্ত্বেও অর্থনীতি বিকশিত হওয়ায় অবাক হয়েছিলেন অনেকে।