দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৮ সালে তিন বছরের জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন শক্তিকান্ত দাস (Shaktikant Das)। আগামী ১০ ডিসেম্বর তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগে শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার জানাল, আরও তিনবছর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর থাকবেন শক্তিকান্ত। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি শক্তিকান্ত দাসের পদের মেয়াদবৃদ্ধি অনুমোদন করেছে।" নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির শীর্ষ পদে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
১৯৮০ সালের ব্যাচের আইএএস অফিসার শক্তিকান্ত দাস এর আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। একসময় তিনি ছিলেন রাজস্ব দফতরের সচিব। পরে তিনি আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত দফতরের সচিব হন। অবসর নেওয়ার পরে তাঁকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদে নিয়োগ করা হয়। একসময় তিনি পঞ্চদশ ফিনান্স কমিশনের সদস্য ছিলেন।
দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন শক্তিকান্ত।
গত মে মাসে করোনার সংকটময় আবহে অর্থনীতির চাকা চালু রাখতে একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করেন আরবিআই গভর্নর। তিনি কোভিড মোকাবিলা এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তাঁর তালিকায় জায়গা করে নেয় ঋণে ছাড়ের মেয়াদবৃদ্ধি, স্বল্প অর্থের জন্য বিশেষ ঋণ-প্রকল্প এবং অতিরিক্ত নগদ জোগানের মতো একাধিক ইস্যু।
সেই সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত হয়েছিল গোটা দেশ। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে আরবিআই প্রধান বলেছিলেন, কেন্দ্র যে কোনওভাবে করোনার বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরবিআই-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অতিমহামারির আঁচ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। এই সূত্রে করোনা যুদ্ধে সামনের সারিতে থাকা হাসপাতালগুলির জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা করেছিলেন।
আরবিআই গভর্নর বলেছিলেন, আপৎকালীন ভিত্তিতে অক্সিজেন, ভ্যাকসিন এবং করোনার ওষুধপত্রের জোগান গুরুতর হয়ে উঠছে। তাই আগামী দিনে সমস্ত কোভিড হাসপাতাল, অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থা এবং ভাইরাসের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আগাম ঋণ দেওয়ার খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। পাশাপাশি এর মেয়াদও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আগামী বছর ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই প্রায়োরিটি লেন্ডিংয়ের সুবিধা মিলবে বলে আরবিআই সূত্রে খবর। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেও বিশেষ ঋণদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।