দ্য ওয়াল ব্যুরো : হাথরাস কাণ্ড নিয়ে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষস্থানীয় অফিসারদের ডেকে পাঠিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। হাইকোর্টের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বললেন, এতদিনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তা 'কঠোর এবং উৎসাহব্যঞ্জক'।
শুক্রবার টুইট করে প্রিয়ঙ্কা বলেন, "সারা দেশ চায়, হাথরাসে গণধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচার হোক। উত্তরপ্রদেশ সরকার মৃতার পরিবারের প্রতি অন্যায় ও অমানবিক আচরণ করেছে। কিন্তু এতদিনে অন্ধকারে আলোর রেখা দেখা গেল।"
https://twitter.com/priyankagandhi/status/1311884076308074497
এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, হাথরাস গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষস্থানীয় অফিসারদের আদালতে উপস্থিত হতে হবে। আগামী ১২ অক্টোবর তাঁরা কোর্টে হাজিরা দেবেন। সেই সঙ্গে মৃতার পরিবারও আদালতে উপস্থিত থাকবেন। আদালত তাঁদের কাছে জানতে চাইবে, পুলিশ কি সত্যিই জোর করে রাত দু'টোর সময় মেয়েটির দেহ পুড়িয়ে দিয়েছিল?
কোর্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, 'হাথরাসের ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ওই তরুণীর মানবাধিকার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মানবাধিকারও লঙ্ঘিত হয়েছে।' পরে বলা হয়েছে, 'ওই তরুণী চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পরে যা ঘটেছে বলে শোনা যাচ্ছে, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে মৃতের পরিবারের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়া হয়েছে।'
এর মধ্যে জানা যায়, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও অপর কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার বিরুদ্ধে মহামারী আইনে মামলা করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশের বাধায় হাথরাসে মৃত দলিত তরুণীর বাড়িতে যেতে পারেননি প্রাক্তন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় তাঁদের আটকায় পুলিশ।
রাহুলরা হাথরাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগেই জানা যায়, উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত ব্যারিকেড করে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। হাথরাসের আশপাশেও জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। রাজ্য সরকার জানায়, করোনা অতিমহামারী রুখতেই ওই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা যাতে মৃত তরুণীর বাড়িতে না যেতে পারেন, সেজন্যই কড়াকড়ি করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
শুক্রবার জানা যায়, মহামারী আইনে গৌতম বুদ্ধ নগরে ইকোটেক ওয়ান থানায় মামলা করা হয়েছে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে। তাঁদের সঙ্গে প্রায় দেড়শ জন কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। তাঁদের নামও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।