দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই যে ঘর ছেড়েছিলেন আর ও-মুখো হননি। পৈতৃক ভিটে, ধর্মপত্নী, সন্তান, পরিচিতি— সব এক লহমায় ছুড়ে ফেলে গোলপার্কের বহুতলে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে থাকতে শুরু করেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তা প্রায় সাড়ে তিন বছর হয়ে গেল।
মঙ্গলবার সেই বেহালায় পা রাখলে শোভন। যখন বেহালা ছেড়েছিলেন, তখন তিনি তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী, কলকাতার মেয়র। আর আজ যখন বেহালায় গেলেন, তখন তিনি বিজেপির বিশিষ্ট নেতা। যেন মুকুটহীন সম্রাট!
এদিন বিজেপির পদযাত্রা ছিল বেহালায়। সেই মিছিলে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই হাজির হয়েছিলেন শোভনবাবুকে। একটি হুডখোলা গাড়ির উপরে ছিলেন তাঁরা। সেখান থেকেই বেহালার আকাশ কাঁপিয়ে মিল্লি আল আমিন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাক্তন অধ্যাপিকাকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মাস খানেক হল শোভন-বৈশাখী গেরুয়া শিবিরে সক্রিয় হয়েছেন। গোলপার্ক থেকে সেলিমপুর পর্যন্ত মিছিল দিয়ে নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়েছিলেন তাঁরা। তার পর এখন রোজই কর্মসূচি করছেন দুজনে। তবে বেহালার কর্মসূচি অন্য সবের থেকে আলাদা। কারণ শোভনবাবু বেলা পূর্বের বিধায়ক। এখনও তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। এদিনের মিছিলের পর অনেকেরই কৌতূহল তাহলে কি ফের বেহালা পূর্বেই বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করবে?
এ ব্যাপারে জবাব দিতে গিয়ে শোভন-বৈশাখীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শোভনবাবুর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “ভোটের পর বিজেপি দেখবে বেহালা পূর্ব আর পশ্চিমে কী রেজাল্ট হয়!” বৈশাখীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে গিয়ে রত্না বলেন, “উনি (বৈশাখী) শোভনের সঙ্গে আসছেন বলে হয়তো বেহালার মানুষ ওঁকে কিছু বলবেন না। কিন্তু একবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে একা বেহালায় ঢুকে দেখান! দেখবেন বেহালার মানুষ ওঁকে কী করে!’’
তিনি আরও বলেন, “ওঁরা মুখে মেক-আপ, গায়ে গয়না পরে নববিবাহিত দম্পতি সেজে সব জায়গায় যাচ্ছেন। বেহালাতেও আসছেন। এতে বেহালার মানুষ হাসছেন। হয়তো মানুষ এখন শোভনবাবুকে কিছু বলবেন না। কিন্তু ব্যালটে এর প্রতিফলন বিজেপি দেখতে পাবে।”