
শেষ আপডেট: 30 May 2024 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার শেষ দফার ভোট। তার আগে ঘটনাচক্রে ইডি আর সিবিআইয়ের নোটিসের যেন হিড়িক পড়ে গেছে।
কয়লা কাণ্ডের তদন্ত সূত্রে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক সওকত মোল্লাকে ভোটের মধ্যে তলব করেছিল সিবিআই। বুধবার আবার তলব করা হয়েছিল রাজারহাট নিউটাউন এলাকার নেতা তথা সেখানকার বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে। তাঁকে তলব করা হয়েছিল, নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্ত সূত্রে। সর্বশেষ এবার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে রেশন দুর্নীতি কাণ্ডের সূত্রে তলব করল ইডি।
কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে এবার লোকসভা ভোটে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ বারবারই উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপির বিরুদ্ধে। বিরোধীরা বলছেন, একদিকে দুর্নীতি কাণ্ডে অভিযুক্ত অজিত পাওয়ারদের নিয়ে যখন মহারাষ্ট্রে সভা করছেন মোদী, তখন বাংলায় এসে বলছেন না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা। তার পর শেষ দফার ভোটের আগে যেভাবে নোটিস পাঠানোর হিড়িক পড়েছে তা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে চলছে হাসি, ঠাট্টা।
রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ঋতুপর্ণাকে নোটিস পাঠানোর পর থেকেই সমাজমাধ্যমে মস্করা চলছে—“ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও রেশনের চালের ভাত খায়? ভাবা যায়! ইডি ডেকে না পাঠালে জানাই যেত না।”
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, ১ জুন বাংলায় যে ৯টি আসনে ভোট হবে তার অধিকাংশই শহর অঞ্চল বা শহর লাগোয়া। রেশন দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি, কয়লা কাণ্ডের ব্যাপারে শহরাঞ্চলে মানুষের ক্ষোভ বেশি। তিন জনকে তিন মামলার সূত্রে নোটিস পাঠানোয় ভোটের মুখে সেই স্মৃতি তাজা হয়ে গেল।
তৃণমূল আবার অন্য অঙ্ক দেখছে। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ভাঙড় বিধানসভায় তৃণমূল এবার চাপে বলে কারও কারও ধারণা। কারণ, গত বিধানসভা ভোটে ভাঙড়ে আইএসএফের কাছে হেরে যায় তৃণমূল। অথচ এই ভাঙড় লোকসভা ও সেখানে সংখ্যালঘু ভোটই গত পনেরো বছর ধরে যাদবপুরে তৃণমূলকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছে। সওকত হলেন দলের তরফে ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক। তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন, ভোটের আগে সওকতকে ভড়কে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সম্ভবত সেই কারণেই বুধবার ভোকাল টনিক দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সওকত হল বাঘের বাচ্চা। ও আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।
আবার বারাসত লোকসভা আসনে এবার টানটান লড়াই রয়েছে। বারাসত লোকসভার দেগঙ্গা বিধানসভা থেকে তৃণমূল বরাবর বিপুল লিড নেয়। কারণ, দেগঙ্গা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা। গত ভোটে দেগঙ্গায় তৃণমূল ৭৪ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিল। কিন্তু এবার সেখানে আইএসএফ প্রার্থী দেওয়ায় সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বারাসত লোকসভার মধ্যেই পড়ে হাবড়া বিধানসভা। গত লোকসভা ভোটে এই হাবড়ায় প্রায় বিশ হাজার ভোটে বিজেপির কাছে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এখানকার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ইতিমধ্যে জেলে রয়েছেন। সেটা কিছুটা হলেও বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দিতে পারে বলে অনেকের মত।
বারাসত লোকসভার মধ্যে অন্যতম বিধানসভা হল মধ্যমগ্রাম। সেখানকার বিধায়ক রথীন ঘোষকে রেশন কাণ্ডে আগে একবার জেরা করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তাৎপর্যপূর্ণ হল, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে যে দেবরাজ চক্রবর্তীকে তলব করা হয়েছে, তিনিও বারাসত লোকসভায় একজন অন্যতম চরিত্র। গত লোকসভা ভোটে রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভা থেকে প্রায় ৩০ হাজার লিড পেয়েছিল তৃণমূল। দেবরাজ সেই এলাকারই নেতা। তাঁর স্ত্রী ওই আসনের বিধায়ক। বারাসত লোকসভার মধ্যে বিধাননগর বিধানসভাও পড়ে। এখানকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুজিত বসুর বাড়িতেও গত জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় এজেন্সি তল্লাশি চালিয়েছে।
সব মিলিয়ে শেষ দফার ভোটে ঘটনাচক্রেই ইডি-সিবিআই ও তাদের নোটিসের একটা ছায়া দীর্ঘতর ছায়া দেখা যাচ্ছে। সবটাই কাকতালীয় কিনা কে জানে!