দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ভ্যাকসিনের দাম নিয়ে সমস্যা প্রথম থেকেই। টিকাকরণ শুরু হওয়ার পরে দেখা গেছে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালই ভ্যাকসিনের দামের নানা রকম তালিকা প্রকাশ করেছে। কোথাও ফোন করে বুক করতে হচ্ছে টিকার স্লট, কেউ আবার অ্যাপের মাধ্যমে সুযোগ পাচ্ছেন টিকা নেওয়ার জন্য নাম লেখানোর। সব ক্ষেত্রেই দামের ফারাক স্পষ্ট, বলা ভাল, টিকার দামের চেয়ে অনেকটা বেশি দামই নিচ্ছে বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভ্যাকসিন-ঘোষণার পরে এমনটা আর হবে না বলে আশা করা যায়। নির্দেশ মেনে দামও কমা উচিত অনেকটাই।
গতকালই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময়ে ভ্যাকসিন নিয়ে নয়া নীতি ঘোষণা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গোটা দেশে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে ফ্রি ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও টিকাকরণ জারি থাকবে টাকার বিনিময়ে। কিন্তু ভ্যাকসিনের দামের উপরে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না।
এইখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও টিকার দাম কমতে চলেছে? কারণ বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকা দেওয়া শুরু হতেই দেখা গেছে দামের তারতম্য। কলকাতা শহরেই এক এক জায়গায় এক এক রকম দামে দেওয়া হয়েছে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন।
সম্প্রতি কোভিশিল্ড নির্মাতা, সেরামের কর্তা আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে ডোজ প্রতি কোভিশিল্ডের মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১৫০ টাকা। রাজ্যের কাছ থেকে নেওয়া হবে ৪০০ টাকা আর সাধারণ নাগরিক যদি তা বেসরকারি ভাবে কিনতে চান তাহলে তাঁকে ৬০০ টাকায় কিনতে হবে। দামের এই তারতম্য নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সেরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উৎপাদনের খুব সীমিত অংশই বেসরকারি ক্ষেত্রগুলিকে বিক্রি করা হবে।
এর পরেই কোভ্যাক্সিন নির্মাতা ভারত বায়োটেকও কোভ্যাক্সিনের দাম কমানোর কথা ঘোষণা করে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজ্য সরকারগুলি ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকায় কোভ্যাক্সিন কিনতে পারবে। তবে বেসরকারি হাসপাতালে কোভ্যাক্সিনের ডোজ প্রতি দাম পড়বে ১২০০ টাকা।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেছে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলি টিকার দাম নিচ্ছে যেমন-তেমন। কোনও কোনও হাসপাতালে কোভ্যাক্সিন নিতে হয়েছে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে। আবার কোভিশিল্ডও বিক্রি হয়েছে ৮০০-১০০০ টাকায়। সমস্ত ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের দামের উপর অতিরিক্ত সারচার্জ বসানোর পরে এই দাম নেওয়া হচ্ছে।
এবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরে এই দাম কমাতে হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ সারচার্জের অঙ্ক ১৫০-র বেশি হবে না বলে যখন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নজরদারিও চলবে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৭৫০ (৬০০+১৫০) টাকা দামে মিলবে কোভিশিল্ড এবং ১৩৫০ (১২০০+১৫০) টাকা দামে মেলার কোভ্যাক্সিন।
কার্যক্ষেত্রে কী হয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলি দামের পরিবর্তন আনে কিনা, সেটাই এখন দেখার।