
শেষ আপডেট: 15 July 2022 08:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের শরীরে সোনালি রক্ত (Golden Blood)! না, রক্তের রং সোনালি নয়। কিন্তু সে রক্তের গ্রুপ এমনই বিরল থেকে বিরলতম (Rarest), যে তাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হচ্ছে 'গোল্ডেন ব্লাড'। সম্প্রতি গুজরাতের রাজকোট শহরে ৬৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির শরীরে মিলেছে এই বিরলতম রক্ত। দেশের (India) মধ্যে এই প্রথম এই গোল্ডেন ব্লাডের খোঁজ পেলেন চিকিৎসকরা।
তথ্য বলছে, সাধারণত রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করা হয় এ, বি, ও এবং এবি দ্বারা। কিন্তু এছাড়াও আরও দুয়েকটি বিরল ব্লাড গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপ 'বম্বে গ্রুপ' নামে পরিচিত। সারা দেশে খুব কম মানুষের শরীরেই এই গ্রুপের রক্ত আছে। তার চেয়েও বিরল হল 'এম নেগেটিভ' (Emm Negative) গ্রুপ, যা গোটা বিশ্বে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির শরীরে পাওয়া গিয়েছে।
কয়েক দিন আগে সুরাতের বাসিন্দা এক ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হয়। তার পরে তাঁর হার্ট সার্জারি প্রয়োজন পড়ে। সেই অস্ত্রোপচারে যখন ব্লাডের দরকার হয়, তখনই পরীক্ষা করে সামনে আসে এই বিরল গোল্ডেন ব্লাডের রহস্য। জানা যায়, এম নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপ ওই রোগীর।
এটি ৪২তম রক্তের গ্রুপ সিস্টেম। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন এই গ্রুপটির নাম দিয়েছে। সাধারণত রক্তের কোষগুলিতে প্রায় ৩৪২টি অ্যান্টিজেন থাকে। এই অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতেই রক্তের গ্রুপগুলি ভাগ করা হয়। এই বিরল গ্রুপের রক্তে লোহিত কণিকার অ্যান্টিজেন নেই। চিকিৎসকদের কাছে এটি ‘আরএইচ-নাল’ (Rh-Null) নামে পরিচিত।
আমেরিকান রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, যে সমস্ত গ্রুপের রক্ত হাজার জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে থাকে সেগুলিকেই বলা হয় বিরল। সেই তালিকায় রয়েছে ও নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপও। কিন্তু এই গোল্ডেন ব্লাড রয়েছে গড়ে ৬০ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ১ জনের শরীরে।
এই গোল্ডেন ব্লাড প্রথম ধরা পড়েছিল ১৯৬১ সালে। একজন অস্ট্রেলিয়ান গর্ভবতী মহিলার রক্ত পরীক্ষা করা হয় তখন এই গোল্ডেন ব্লাডের কথা সামনে আসে। তথ্য বলছে, শেষ হিসেব অনুযায়ী সারা বিশ্বে মাত্র ৪৩ জন মানুষের দেহে এই গোল্ডেন ব্লাডের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। এই গ্রুপের ব্যক্তিরা অন্যকে রক্ত দিতে পারেন, কিন্তু কারও থেকে নিতে পারেন না। নিতে হলে গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপের রক্তই চাই। তাই এই ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তিদের সব সময় সাবধানে চলতে হয়।
সুচিত্রা থেকে কঙ্গনা, ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে বলিউডের ৯ অভিনেতা! কাকে সবচেয়ে মানিয়েছে