দ্য ওয়াল ব্যুরো : সব ধর্ষণ এক নয়। তারও নানা শ্রেণিবিভেদ আছে। এমন মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিলেন উত্তরপ্রদেশের জলসম্পদ, বন ও পরিবেশমন্ত্রী উপেন্দ্র তেওয়ারি। তাঁর মতে, কোনও নাবালিকাকে ধর্ষণ করা একরকম অপরাধ, বিবাহিত মহিলাকে ধর্ষণ করা আর একরকম অপরাধ।
রাজ্যে বেড়ে চলা ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, ধর্ষণেরও পৃথক পৃথক চরিত্র আছে। কোনও নাবালিকাকে ধর্ষণ করলে নিশ্চয় তা ধর্ষণ। কিন্তু যদি মাঝবয়সী কোনও মহিলা যদি ধর্ষিত হন, ব্যাপারটা আলাদা। উত্তরপ্রদেশে সম্প্রতি কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে আলিগড়ের ঘটনা অন্যতম। সেখানে এক আড়াই বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়। অভিযুক্ত জাহিদকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মানহানি করার দায়ে পুলিশ কয়েকজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে। তেওয়ারিকে এসম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সংবাদ বলে সাংবাদিকরা যা প্রকাশ করেন, তার দায়ও তাঁদেরই নিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট করার আগে প্রত্যেক সাংবাদিকের যাচাই করা উচিত, তাঁরা যা প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, তা সত্যি কিনা। যদি ধৃত সাংবাদিকের কাছে ফেসবুক পোস্টের পক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে, তিনি আদালতে পেশ করুন।
গত শনিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ প্রশান্ত কানোজিয়া নামে এক ফ্রিলান্স সাংবাদিককে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, তিনি যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করেছেন। গুজব ছড়াতে চেষ্টা করেছেন।
প্রশান্ত টুইটারে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। তাতে এক মহিলাকে যোগীর সম্পর্কে কিছু বলতে শোনা যায়। সেই ভিডিও-র নীচে প্রশান্ত লেখেন, ইশক ছুপতা নেহি ছুপানে সে যোগীজি...।
কানোজিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের অপরাধী দণ্ডবিধির ৫০০ (মানহানি) ও ৫০৫ (অসৎ উদ্দেশ্যে বিবৃতি দান) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারা (বৈদ্যুতিন মাধ্যমে অশ্লীল বিষয় পোস্ট করা) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। এডিটরস গিল্ড ও অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন একবাক্যে সাংবাদিককে গ্রেফতারের নিন্দা করেছে। তাদের বক্তব্য, বাড়াবাড়ি করেছে পুলিশ। মানহানি সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।