দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’জনেই সন্ন্যাসী। গেরুয়া বসন দু’জনেরই। একজন বিজেপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। অন্যজন বিজেপির উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন বাবা রামদেব। তাও আবার অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের একদিন পরেই। বললেন, বাতিল করে দেবেন উত্তরপ্রদেশে যমুনা হাইওয়ের ধারে প্রস্তাবিত পতঞ্জলির বিরাট ফুড পার্ক।
রামদেবের অভিযোগ, একের পর এক কাগজ চেয়ে লাল ফিতের ফাঁসে তাঁদের আটকে রাখছেন যোগীর সরকার। রামদেবের ডানহাত, পতঞ্জলির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আচার্য বালকৃষ্ণ বলেন, কোনও সহযোগিতা করছে না উত্তরপ্রদেশ সরকার। বহুদিন অপেক্ষা করেছি, এবার এই ফুড পার্ক সরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যোগী এবং উত্তরপ্রদেশের অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেও সমাধান হয়নি সমস্যার। এদিকে তাঁরা সমস্ত যন্ত্রপাতির অর্ডার দিয়ে দিয়েছেন। এখন ফুড পার্ক না সরানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাঁদের। তবে এর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাবেন উত্তরপ্রদেশের কৃষকরাই।
কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, এই ফুডপার্কের সম্মতি দেওয়া হয়েছে জানুয়ারি মাসে। ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য জরুরি সব কাগজপত্র এখনও জমা দিতে পারেনি পতঞ্জলি। তাদের জন্য একমাস সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
২০০৮ সালে, কেন্দ্রের ইউপিএ সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, দেশের কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর সুযোগ দিতে গড়া হবে ফুড পার্ক। পরে মোদী ক্ষমতায় আসার পর সেই সিদ্ধান্তকেই প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদ যোজনা নাম দেন। এই মুহূর্তে দেশে এমন ৪২ টা ফুড পার্কের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে ছয় হাজার কোটি টাকা খরচ করে ৪৫৫ একর জমির ওপর পতঞ্জলির প্রস্তাবিত এই ফুড পার্কই তার মধ্যে সব থেকে বড়। এই ফুডপার্ক তৈরি হলে চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০ হাজার লোকের।
গত বছরের নভম্বরে এই পার্কের শিলন্যাস করেন উত্তরপ্রদেশের সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। পরে তিনি ভোটে হেরে যান। ক্ষমতায় আসে বিজেপি।
কদিন আগেই কাইরানার উপনির্বাচনে পর্যদুস্ত হয়ে বিজেপি। তার আগের উপনির্বাচনেও হেরেছে বিজেপিই। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগীর কেন্দ্র গোরক্ষপুরেও হারতে হয়েছে তাদের। এইবার যোগীর বিরুদ্ধেই ঘনিষ্ঠ রামদেবের এমন তোপ দাগায় জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।