
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 April 2025 09:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে (Waqf Protest) মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) কার্যত তাণ্ডব চলেছে। তিনজনের মৃত্যু যেমন হয়েছে, তেমনই বহু মানুষ ঘরছাড়া। প্রাণ বাঁচাতে কেউ পড়শি জেলায় চলে গেছেন, কেউ আবার পড়শি রাজ্যেও। এক কথায়, তাঁরা নিজের রাজ্যেই 'উদ্বাস্তু'! এমন মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে রামকৃষ্ণ মিশন (Ramakrishna Mission)। ঘরছাড়াদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তাঁদের তরফে।
মুর্শিদাবাদ থেকে বহু মানুষ পালিয়ে এসে আপাতত রয়েছেন মালদহ জেলায়। সেখানেই ত্রাণ বিলি করেছে রামকৃষ্ণ মিশন। জেলার পারলাপুর হাইস্কুল এখন 'উদ্বাস্তু শিবিরে' পরিণত হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া মানুষদের সাহায্যে তাই এগিয়ে এসেছে মিশন কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ইতিমধ্যে পারলালপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নেওয়া ৩৫৫ জন পুরুষ-মহিলা এবং ৫২ জন শিশুকে সাময়িক ত্রাণ প্রদান করা হয়েছে। বাচ্চাদের জন্য বেবি ফুডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল থেকে মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় বিক্ষোভের জেরে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশের ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। তারপর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে জেলায়। এলাকায় এখন বিএসএফ টহল দিচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে পুলিশি নিরাপত্তাও। রাজ্য পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। ধীরে ধীরে ঘরছাড়ারাও বাড়ি ফিরছেন। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
বুধবার আবার মুর্শিদাবাদের কয়েকজন ঘরছাড়াদের নিয়ে ভবানী ভবন গিয়ে ডিজির সঙ্গে দেখা করে বিজেপির প্রতিনিধি দল। তবে সেই বৈঠকে তাঁরা আশ্বস্ত হননি বলেই জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, সাংবাদিকদের বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, যে যে প্রশ্ন তাঁরা করেছিলেন, তার যথাযথ উত্তর পাননি। ডিজি ঘরছাড়াদের অভিযোগের কথাও শুনেছেন। তবে আশ্বস্ত করার মতো কিছু বলতে পারেননি। শুধু জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী কাজ হবে। প্রসঙ্গত, সুকান্ত মজুমদার ছাড়া জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায় এবং অর্জুন সিংহও এদিন ঘরছাড়াদের সঙ্গে গেছিলেন ভবানী ভবনে।