দ্য ওয়াল ব্যুরো : রামায়ণে (Ramayana) আছে, বনবাস পর্বের এক দীর্ঘ সময় দণ্ডকারণ্যে কাটিয়েছিলেন রামচন্দ্র। ভক্তেরা বিশ্বাস করেন, দণ্ডকারণ্যের যে পথে ধরে তিনি গিয়েছিলেন, তার নানা চিহ্ন এখনও ছড়িয়ে আছে। রামচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি ভক্তদের দেখানোর জন্য ‘রাম বনগমন সার্কিট’ নামে এক পর্যটনের উদ্বোধন হল ছত্তিসগড়ে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাগেল ওই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তাতে খরচ হয়েছে ১৩৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। আশা করা হচ্ছে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে তো বটেই, বিদেশের পর্যটকদেরও আকর্ষণ করবে ওই প্রকল্প।
চাঁদখুরি শহরে ওই প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে তিনদিনের উৎসবের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাগেল বলেন, “ছত্তিশগড়ের সঙ্গে প্রভু রামের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই রাজ্যের প্রত্যেক বাসিন্দার হৃদয়ে রয়েছেন রামচন্দ্র।” পরে তিনি বলেন, “আমরা, ছত্তিসগড়িরা প্রভু রামকে মাতা কৌশল্যার রাম, বনবাসী রাম হিসাবে জানি।” মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ছত্তিসগড়ের সংস্কৃতিতে, মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভু রামের প্রভাব রয়েছে।
চাঁদখুরি শহরে তিনদিনের উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীরা নানা অনুষ্ঠান করবেন। বিদেশি শিল্পীরাও আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘোটুল ও দেবগুড়ি সহ আদিবাসী সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রথাকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। রাজ্যের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলিরও যত্ন নেওয়া হচ্ছে। সরগুজায় পাঁচ হাজার বছরের পুরানো একটি প্রেক্ষাগৃহ আছে। এছাড়া ডোঙ্গরগড় নামে এক জায়গায় দেবী বালমেশ্বরীর মন্দির আছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলির সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেগুলি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
ভূপেশ বাগেল বলেন, কেউ কেউ রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্য নষ্ট করতে চাইছে। কিন্তু তারা সফল হবে না। এই রাজ্যের মানুষ সহনশীলতায় বিশ্বাস করে।
চাঁদখুরি শহরে মাতা কৌশল্যার মন্দিরে যান ভূপেশ। রাজ্যবাসীর কল্যাণের জন্য তিনি মন্দিরে প্রার্থনা করেন। এরপরে তিনি ৫১ ফুট উঁচু রামের একটি মূর্তির উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি কৌশল্যা মন্দিরের সারাইয়ের জন্য ১৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। মন্দির চত্বরেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে রামের মূর্তি। মন্দিরের চারপাশে রয়েছে সুন্দর বাগান। মন্দির চত্বরে আছে একটি দীঘি। তার মধ্যে রয়েছে ভগবান বিষ্ণুর একটি মূর্তি। দেখা যাচ্ছে, বিষ্ণু শেষনাগের ওপরে শয়ন করেছেন। তাঁর পদসেবা করছেন দেবী লক্ষ্মী।