দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুটা কঙ্গনা রানাউতের সুরেই ১৯৪৭ এর স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্যের জেরে বিতর্কে জড়ালেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) (vhp) (top leader) শীর্ষনেতা সুরেন্দ্র জৈন। কঙ্গনা সম্প্রতি বলেন, ১৯৪৭ এর অর্জিত ভারতের স্বাধীনতা ভিক্ষে করে পাওয়া, ২০১৪ সালে ভারত আসল স্বাধীনতা পায়। ঘটনাচক্রে ২০১৪তেই কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার গড়েন। সেই বিতর্কের রেশ না মিলাতেই জৈনের দাবি, রামমন্দির আন্দোলন (ram temple movement) স্বাধীনতার লড়াইয়ের (freedom struggle) থেকেও বড়! তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১৯৪৭-এ ভারত রাজনৈতিক স্বাধীনতা (political freedom) পায়। কিন্তু রামমন্দির আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের ধর্মীয়, (religious) (cultural) (freedom) সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা পেয়েছি। যা স্বাধীনতা সংগ্রামের চেয়েও বড় আন্দোলন ছিল।
রামমন্দির দেশে রামরাজ্যের লক্ষ্যে যাত্রার সূচনা করেছে, মন্দির প্রতিষ্ঠিত হলেই ভারতের ভাগ্য উন্নতির পথে বদলে যাবে বলেও দাবি করেন ভিএইচপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বলেন, বর্তমান শতাব্দী রামের। ডোনেশন অভিযান গোটা দেশকে জুড়ে দেওয়ার সেতু হয়ে ওঠে। প্রমাণ হয়েছে, শুধু রামই সারা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন, আর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি শুধুমাত্র দেশে বিভাজনই ঘটিয়েছে।
এদিকে সব কে রাম শিরোনামে লেখা এক বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠানে আরএসএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমারের দাবি, রামমন্দির আন্দোলন হিন্দু সমাজকে জাগিয়ে তুলেছে, হিন্দুদের আত্মোপলব্ধির একটি মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। ভিএইচপি প্রকাশিত বিবৃতিতে কুমারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যারা বলছিল, হিন্দুত্বের আবেগ ম্রিয়মান, তারা সন্দেহ, সংশয়ের জবাব পেয়ে গিয়েছে রামমন্দিরের সমর্থনে ডোনেশন পড়ার ঢল দেখে। আসলে হিন্দু সমাজকে জাগিয়ে তুলেছে, আত্মোপলব্ধির কারণ হয়ে উঠেছে রামমন্দির আন্দোলন। কোনও প্রতিক্রিয়ার ফসল নয়, হিন্দুদের দায়বদ্ধতার ফল এই আন্দোলন।
রামমন্দির আন্দোলনে সামিল ছিল ভিএইচপি, আরএসএস, বিজেপি। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ধ্বংস হয় বাবরি মসজিদ। ২০১৯-এ হিন্দুদের রামমন্দির তৈরির দাবির পক্ষে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট, বিতর্কিত জমি তুলে দেওয়া হয় হিন্দু সংগঠনগুলিকে। তবে বাবরি ধ্বংসে অভিযুক্তরা রেহাই পান। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পরিচালনায় অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের মুখে নির্মাণকাজ শেষ করার টার্গেট রাখা হয়েছে, যাতে তার পুরো ফসল নির্বাচনে ভোটবাক্সে তুলতে পারে গেরুয়া শিবির।