দ্য ওয়াল ব্যুরো : সেপ্টেম্বরের শুরুতেই জানা যায়, দিল্লি সীমান্তে ও উত্তরপ্রদেশে ফের কৃষক আন্দোলনকে (Farmers' protest) জোরদার করার চেষ্টা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার বিজেপির সাংসদ অক্ষয়বর লাল গোন্দ দাবি করলেন, কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত ডাকাত ছাড়া কিছু নন। বিদেশিদের অর্থে ওই আন্দোলন চলছে।
বাহরাইচের সাংসদ গোন্দ সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত কৃষকরা আন্দোলনে শামিল হননি। বিভিন্ন দলের লোক ওই আন্দোলনে আছে। তারা 'শিখিস্তান ও পাকিস্তানের' দ্বারা প্রভাবিত। কানাডা ও অন্যান্য দেশ থেকে তাদের জন্য অর্থ আসছে। গোন্দের কথায়, "যদি কৃষকরা আন্দোলন করত, তাহলে এতদিনে দেশে খাদ্যশস্যের অভাব দেখা দিত।"
সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে একটি মেগা বৈঠকে সামিল হন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা। আবার আন্দোলন পুরোদমে শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দাবি একটাই, কেন্দ্রের তিন কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। কারণ তা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী।
মুজাফফরনগর থেকে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকার বলছে গুটিকয়েক কৃষক আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের আমরা দেখিয়ে দিতে চাই আমরা সংখ্যায় কম নই। পার্লামেন্টে যাঁরা বসে আছেন আমরা আমাদের আওয়াজ তাঁদের কান পর্যন্ত পৌঁছে দেব।
গত ৭ সেপ্টেম্বর আন্দোলনরত কৃষকরা জমায়েত করেন হরিয়ানার কারনালে। গত ২৮ অগাস্ট কারনালে কৃষকদের ওপরে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছিলেন সুশীল কাজলা নামে এক কৃষক। পরে তিনি মারা যান। পুলিশ দাবি করে, হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত পরে টুইট করে বলেন, সুশীল কাজলার মৃত্যুর বিচার চাইতে তাঁরা মহাপঞ্চায়েত বসাবেন ও বিক্ষোভ মিছিল করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের নির্বাচন কেন্দ্র কারনালে গোলমালের আশঙ্কায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টা থেকে কারনাল কুরুক্ষেত্র, কাইথাল, জিন্দ এবং পানিপথে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে ৪০ টি কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা করে। কারনালের এসডিএম আয়ুষ সিনহার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছিল, তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছেন, কৃষকদের মাথা ভেঙে দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর কার্যত আয়ুষ সিনহাকেই সমর্থন করেন। তিনি বলেন, "অফিসারের ওই কথাগুলি বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর হতেই হয়।" ওই মন্তব্যে আরও অসন্তুষ্ট হন কৃষকরা। স্বরাজ ইন্ডিয়ার নেতা যোগেন্দ্র যাদব বলেন, "আমরা প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, কোন আইনে মাথা ভেঙে দেওয়ার কথা বলা আছে?" আয়ুষ সিনহাকে গত সপ্তাহে বদলি করা হয়েছে।