দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেহলু খান হত্যার এক বছরের মধ্যেই ফের আলোয়ারে গণপ্রহারের শিকার হয়েছেন বছর আঠাশের যুবক রাকবর খান। গরু পাচারকারী সন্দেহে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উঠে এসেছে নানা তথ্য।
সম্প্রতি পুলিশের হাতে এসেছে রাকবরের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেধড়ক মারধরের ফলেই মারা গিয়েছেন রাকবর। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, একটি হাত এবং পায়ে ফ্র্যাকচার ছিল রাকবরের। ভেঙে গিয়েছিল পাঁজরের হাড়ও। সব মিলিয়ে রাকবরের শরীরে ছিল ১২টি আঘাতের চিহ্ন। অতিরিক্ত মারধরের ফলে দেহের ভিতর প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছিল তাঁর। আর এর ফলেই মারা যান রাকবর।
গত শুক্রবার ২০ জুলাই আলোয়ারের লালওয়ান্দি গ্রামের কাছে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন রাকবর। সঙ্গী ছিলেন আসলাম নামের আরেক ব্যক্তি। সেই সময় তাঁদের উপর চড়াও হয় জনা সাতেকের একটি দল। এরপরেই গরু পাচারকারী সন্দেহে শুরু হয় গণধোলাই। ঘটনার সময় কোনওমতে পালিয়ে বেঁচেছিলেন আসলাম। তিনি জানিয়েছেন, রাকবরের উপর অকথ্য অত্যাচার চালানোর সময় আততায়ীদের মুখে ছিল একটাই বুলি। স্থানীয় বিধায়ক রয়েছেন তাদের সঙ্গে। কেউ তাদের কিচ্ছু করতে পারবে না। যদিও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক জ্ঞানদেব আহুজা সম্পূর্ণ ঘটনাই অস্বীকার করেছেন। সাতজনের ওই দলের পাঁচ জনের নাম পুলিশকে জানিয়েছিল আসলাম। এঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সে দিন রাতে লালওয়ান্দির জঙ্গল থেকে রাত একটা নাগাদ রাকবরকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু তাঁকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে গাড়ি জোগাড় করে প্রথম ঘটনাস্থলে থাকা গরুগুলির ব্যবস্থা করে পুলিশ। এরপর স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয় রাকবরকে। সেখানে স্নান করানো হয় তাঁকে। তারপর হাসপাতালের উদ্দেশে রাকবরকে নিয়ে রওনা হয় পুলিশবাহিনী।
হাসপাতাল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, রাকবরকে হাসপাতালে আনা হয় ভোর চারটে নাগাদ। রাত একটার সময় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে যেতে তিন ঘণ্টা দেরি কেন হলো সে বিষয়ে জানতে গিয়ে উঠে এসেছে চুড়ান্ত পুলিশি গাফিলতির ছবি। যে রাস্তা যেতে ৪৫ মিনিট লাগার কথা সেটা যেতে কেন এত দেরি হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। উত্তরে জানা গিয়েছে, গাড়িতে যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন রাকবর তখন রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আয়েশ করে চা খেয়েছিলেন পুলিশ কর্মীরা। এই ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে আলোয়ার পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তাকে।
মঙ্গলবার, রাকবর খান হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে আলোয়ারের কংগ্রেসের বিধায়ক করণ সিং যাদব বলেছেন, "এসব বিজেপির পুরনো রাজনীতির চোখ। সবসময় এরা একটা হিন্দু-মুসলিম ইস্যু নিয়ে গন্ডগোল বাঁধিয়ে রাখে। বিশেষ করে ভোটের আগে।" তবে শুধু বিজেপিই নয় আলোয়ার পুলিশকেও একহাত নিয়েছেন কংগ্রেসের এই বিধায়ক। তিনি বলেছেন, "আহতকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তা না করে এখানে পুলিশ চা খাচ্ছিল।" পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ট সন্দেহজনক বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।