দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় পেশ করেন নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল। তখন বিরোধীরা ঘন ঘন তাঁর বক্তব্যে বাধা দিতে থাকেন। তাঁদের হট্টগোল এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু রাজ্যসভা টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তিনি বিক্ষোভকারী সাংসদদের ধমক দেন কড়া ভাষায়।
অমিত শাহ বলেন, সরকার অসমিয়াদের স্বার্থরক্ষা করতে দায়বদ্ধ। তখন অসমের এমপি রিপুন বরা তীব্র প্রতিবাদ করেন। কংগ্রেসের অন্যান্য এমপি-ও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু তাঁদের সাবধান করে বলেন, কাউকে বক্তব্য পেশ করতে বাধা দেবেন না। পরে তিনি বলেন, যাঁরা সভার অধিবেশনে বাধা দিচ্ছেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করবেন। নিয়ম অনুযায়ী, চেয়ারম্যান যাঁদের নাম বলেন, তাঁদের সভা থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। তিনি সেদিনের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন, বিক্ষোভকারীরা যা বলছেন, তা সভার কার্যবিবরণীতে স্থান পাবে না। তার পরেই রাজ্যসভা টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের পাশে একটি বোতাম থাকে। তিনি তাতে চাপ দিলেই টিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এদিন রাজ্যসভায় হট্টগোল থামলে ফের সম্প্রচার শুরু হয়। তখন দেখা যায়, অমিত শাহ একাই বক্তব্য পেশ করছেন।
প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে পালিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সোমবার বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে বিতর্কের পরে লোকসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল। তার পক্ষে ভোট পড়েছে ৩১১ টি। বিপক্ষে পড়েছে ৮০ টি। বিরোধীদের বক্তব্য, ওই বিলে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, আইনের সামনে সকলেই সমান।
বুধবার বিলটি পেশ করা হয়েছে রাজ্যসভায়।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্ব ভারত। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ডাকে মঙ্গলবার অসমে পালিত হয়েছে ১১ ঘণ্টার বন্ধ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এমনকি বিজেপির সহযোগী দলগুলির সাংসদরাও ওই বিলের বিরোধিতা করেছেন। বুধবার দুপুরে অসম ও ত্রিপুরায় সেনা নামানো হয়েছে।