
সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 20 July 2024 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোট চলাকালীনই গত মে মাসে রাজভবনের এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু প্রথম থেকেই সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল। আর শনিবার একেবারে রিপোর্ট পেশ করে এই ঘটনাকে ভুয়ো বলে দাবি করল রাজভবন।
শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রেক্ষিতে রাজভবনের তরফে একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওই মহিলা যে অভিযোগ করেছেন তার কোনও সারবত্তা নেই। পুরোটাই ভিত্তিহীন অভিযোগ। ৮ জন 'সাক্ষী'র বয়ানের ভিত্তিতে ওই তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। আর এটি তৈরি করেছেন পুদুচেরির অবসরপ্রাপ্ত নগর ও দায়রা বিচারক ডি রামাবাথিরণ।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। যদিও সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি তারা। কিন্তু অভিযোগকারিণীর বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গেছে তারা। এখন রাজভবনের তদন্ত রিপোর্ট বলছে, রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর কোনও অভিযোগই দায়ের করেননি ওই অভিযোগকারিণী। তাহলে যৌন হেনস্তার বিষয় আসছে কোথা থেকে?
গোটা ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্ট মামলা দায়ের হয়েছিল। আদালত অবশ্য গোটা তদন্তে স্থগিতাদেশ জারি করে। এর পর অভিযোগকারিণী দ্বারস্থ হন সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'রাজ্যপাল বলে কি আইনের বাইরে তিনি?' এই মামলায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তদন্তে ছাড়পত্র দেওয়ার দাবি জানায় রাজ্যও। এরপরই মামলাটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রকে বক্তব্য জমা দিতে বলেছে আদালত।
শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর ক্রমাগত তাঁকে যেভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে তাতে ভীষণ ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনের ঘটনা নিয়ে তাঁর নামে যে যে মন্তব্য করেছেন তা অপমানজনক বলেই মনে করেছেন বোস। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি কলকাতা হাইকোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও মানহানির মামলা করেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে রাজভবনের রিপোর্ট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। যদিও এই রিপোর্টকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের বক্তব্য, যে অভিযুক্ত, সেই বিচারক, এ আবার হয় নাকি!