
সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 23 May 2024 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে উঠেছে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীরা নিশানা করছে তাঁর রামকৃষ্ণ মিশন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য। দুইয়ে মিলিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রামকৃষ্ণ মিশন নিয়ে বিবৃতি জারি করল রাজভবন। রামকৃষ্ণ মিশন রাজ্য, দেশ বা গোটা বিশ্বের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য সেটাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
লোকসভা ভোটের প্রচারে রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু-সন্ন্যাসীদের একাংশ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, সব সাধু সমান হন না। সরাসরি তাঁর নিশানায় ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজও। পরে অবশ্য নিজের সুর কিছুটা নরম করেছিলেন মমতা। বলেছিলেন, তিনি রামকৃষ্ণ মিশন বা তার বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। নির্দিষ্ট কয়েকজনের উদ্দেশে বলেছেন। তবে এরই মধ্যে তাঁর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আক্রমণ শানান খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় এসে তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার তোষণের রাজনীতি করবে বলে সাধুদেরও ছাড়ছে না।
রাজভবনের তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দ সহ আরও মহান ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ''বাংলার মানুষের মনে রামকৃষ্ণ মিশনের জন্য এক গর্বের জায়গা রয়েছে। গোটা বিশ্বের জন্য এটা অনুপ্রেরণার এক উৎস। যদি কেউ জেনে বুঝে বা অজান্তে এই সংগঠনকে অসম্মান করে তাহলে মনে রাখতে হবে শ্রী রামকষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দ সহ আরও মহান ব্যক্তিত্বদের তাঁরা অসম্মান করছে। এমন ঘটনা মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করবে।'' রামকৃষ্ণ মিশন নিয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে কারও নাম না নিয়ে রাজভবনের খোঁচা, ''বিনাশ কালে বুদ্ধি নাশ।''
— Raj Bhavan Kolkata (@BengalGovernor) May 22, 2024
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবার রামকৃষ্ণ মিশনের জলপাইগুড়ি শাখায় হামলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন মিশনের ভিতর। লোকজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। সিসিটিভি নষ্ট করে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণেই এই ঘটনা। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য ছিল, হিন্দু সন্তদের হুমকি দিচ্ছে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলেই তৃণমূলের গুন্ডাদের সাহস বেড়ে গিয়েছে।