দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেস কৃষকদের সমস্যার সমাধান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেইমতো মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে কৃষকদের ঋণ মকুব করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। এর পর বুধবার হিন্দি বলয়ের অপর গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য রাজস্থানেও কৃষিঋণ মকুব করা হল।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1075417210196234240
কংগ্রেসের দেখাদেখি কৃষকদের নানা ছাড় দেওয়ার পথে হাঁটছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিও। গত মঙ্গলবার অসমে আট লক্ষ চাষির কৃষি ঋণ মকুব করে দেওয়া হয়েছে। তাতে রাজ্যের ক্ষতি হবে ৬০০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে গুজরাত সরকারও গ্রামের বিদ্যুৎ বিল মকুব করে দিয়েছে। তাতে ক্ষতি হবে ৬৫০ কোটি টাকা।
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, গুজরাত ও অসমের মুখ্যমন্ত্রীদের আমরা ঘুম থেকে তুলতে পেরেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আমরা তাঁকেও ঘুম থেকে তুলব।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1075291487586435072
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত বলেছিলেন, ১০ দিনের মধ্যে কৃষিঋণ মকুব করবেন। বাস্তবে শপথ নেওয়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তা করেছেন। তাঁর ঋণ মকুব প্রকল্পে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মকুব করা হবে। তাতে রাজ্যের বাড়তি খরচ হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা।
গত সোমবার থেকে রাহুল বারে বারে ঋণ মকুবের কথা তুলে ধরেছেন। সেদিন সংসদের বাইরে সেলফোনে তোলা ভিডিও ছবিতে দেখা যায়, তিনি বলছেন, দেখা আপনে? আপনে দেখা? শুরু হো গয়ে না কাম? এক্ষেত্রে ‘কাম’ বলতে তিনি ঋণ মকুব করার কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার অবশ্য বলেছেন, ঋণ মকুব করলে চাষিরা সাময়িক সুবিধা পেতে পারেন মাত্র। তাতে স্থায়ী সমাধান হয় না। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলও বলেছেন, ঋণ মকুব করে সমস্যার সমাধান হয় না।
অনেকে বলছেন, কংগ্রেস হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে কৃষিঋণ মকুব করেছে বটে, কিন্তু কর্ণাটকে করতে পারেনি। সেখানে ওই দল জনতা দল সেকুলারের সঙ্গে যৌথভাবে ক্ষমতায় আছে। মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন, ঋণ মকুব করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সরকার সেই কাজে বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনি।
কুমারস্বামী বলেছিলেন, ৪৪ লক্ষ চাষির মোট ৪৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ মকুব করে দেবেন। বাস্তবে মাত্র ৮০০ জন চাষি এখনও পর্যন্ত ওই সুবিধা পেয়েছেন। কর্ণাটকের প্রসঙ্গ তুলে তিন রাজ্যে কংগ্রেসের ঋণ মকুবের ঘোষণাকে ব্যঙ্গ করেছে বিজেপি।